দ্য ওয়াল ব্যুরো : অবশেষে শনিবার সংবাদমাধ্যমের লোকজন হাথরাসে মৃত তরুণীর গ্রামে ঢোকার অনুমতি পেল। মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বললেন সাংবাদিকরা। পরিবারের লোকজন প্রথমেই বলেন, "আমরা ন্যায়বিচার চাই।" পরে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, রাতের অন্ধকারে তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কেন?
মৃত তরুণীর ভাই প্রশ্ন করেন, "সেদিন কার দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদি আমার বোনের দেহ হয়, তবে ওইভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হল কেন? পুলিশ এবং প্রশাসন কেন তাকে শেষবারের মতো দেখতে দিল না।" পরে তিনি বলেন, "আমি বোনের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট দেখতে চেয়েছিলাম। পুলিশ বলল, ওই রিপোর্ট ইংরেজিতে লেখা। তোমরা পড়তে পারবে না।"
দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ ও খুনের তদন্তে উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী টিম (সিট) তৈরি করেছে। মৃতের পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবার তাদের সঙ্গে কথা বলেননি সিটের কোনও প্রতিনিধি। তবে তার আগে একবার কথা বলেছিলেন। শুক্রবার সিট ওই গ্রামে গিয়েছিল। তাদের সঙ্গে গ্রামের লোকজনের কথা হয়েছে।
মৃতের পরিবার অভিযোগ করে, দু'দিন ধরে তাঁদের বাড়ির বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি। বাড়ির চারপাশে সারাক্ষণ পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। মৃতের ভাই বলেন, "আমাদের বাড়ির দিকে সবসময় নজর রাখছে পুলিশ। তারা আমাদের মোবাইল ফোন দেখতে চাইছে।" মৃতের পরিবারের অপর এক সদস্য বলেন, "গ্রামের অধিকারী আমাদের চাপ দিচ্ছেন যাতে এই মামলায় আমরা সমঝোতা করে নিই। কিন্তু আমরা চাই ন্যায়বিচার।"
এদিন সদর সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট প্রেম প্রকাশ মিনা বলেন, গ্রামে ঢোকার ব্যাপারে মিডিয়ার ওপরে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনও ১৪৪ ধারা জারি করা আছে। পাঁচজনের বেশি সাংবাদিককে একসঙ্গে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার পরিবারের দাবি, তাঁরা দলিত হওয়ার জন্যই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছিল। গণধর্ষণের পরে তরুণীর ওপরে বীভৎস অত্যাচার করে অপরাধীরা। তাঁর শরীরে নানা জায়গায় হাড় ভেঙে যায়। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ঘাড়ে গভীর ক্ষত থাকার জন্য তাঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন।
অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জোর করে তাঁর দেহ আত্মীয়দের থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। পরিবারকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে রাত আড়াইটেয় তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেন।