দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মাসে হাসপাতালে মারা যান হাথরাসের নির্যাতিতা দলিত তরুণী। পরে শোনা যায়, উচ্চবর্ণের লোকজন তাঁর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। ওই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে উত্তরপ্রদেশ সরকার জানায়, তারা মৃতের পরিবার ও সাক্ষীদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে দায়বদ্ধ। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, সিবিআই তদন্তের ওপরে নজর রাখুক শীর্ষ আদালত।
গত মঙ্গলবার সিবিআই হাথরাসে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় তদন্ত শুরু করে। মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সিবিআই অফিসাররা। উত্তরপ্রদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছে, প্রতি ১৫ দিন অন্তর রাজ্য সরকারের কাছে তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিক সিবিআই। রাজ্যের পুলিশ প্রধান সেই রিপোর্ট জমা দেবেন সুপ্রিম কোর্টে।
মৃতের পরিবারকে কী নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এফিডেবিট জমা দেয় যোগী সরকার। নিরাপত্তার দায়িত্বে যে পুলিশকর্মীরা আছেন, তাঁদের নামের তালিকা জমা দেওয়া হয় শীর্ষ আদালতে। উত্তরপ্রদেশ সরকার বলে, মৃতের বাড়ির বাইরেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ির আশপাশে বসানো হয়েছে আটটি সিসিটিভি ক্যামেরা। সরকার লক্ষ রাখছে যাতে নির্যাতিতার বাড়ির আশপাশে অবাঞ্ছিত কেউ যেতে না পারে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার পরিবারের দাবি, তাঁরা দলিত হওয়ার জন্যই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছিল। গণধর্ষণের পরে তরুণীর ওপরে বীভৎস অত্যাচার করে অপরাধীরা। তাঁর শরীরে নানা জায়গায় হাড় ভেঙে যায়। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ঘাড়ে গভীর ক্ষত থাকার জন্য তাঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন।
অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জোর করে তাঁর দেহ আত্মীয়দের থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। পরিবারকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে রাত আড়াইটেয় তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেন।
মৃত তরুণীর ভাই প্রশ্ন করেন, "সেদিন কার দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদি আমার বোনের দেহ হয়, তবে ওইভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হল কেন? পুলিশ এবং প্রশাসন কেন তাকে শেষবারের মতো দেখতে দিল না।" পরে তিনি বলেন, "আমি বোনের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট দেখতে চেয়েছিলাম। পুলিশ বলল, ওই রিপোর্ট ইংরেজিতে লেখা। তোমরা পড়তে পারবে না।"