
শেষ আপডেট: 12 August 2023 02:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'হেট স্পিচ' অর্থাৎ ঘৃণা ভাষণ। তার জেরেই দাঙ্গা ছড়ায়, সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে প্রাণ হারান নিরীহ মানুষ। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরাসরি ঘৃণা ভাষণ দেওয়ার, এবং তাতে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলছিল বিরোধীরা। ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে তার উপর ভিত্তি করেই ভোটে জেতা পদ্ম শিবিরের নীতি বলে দাবি তাদের। এবার এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট (Hate speech Supreme Court order)।
সম্প্রতি হরিয়ানার নুহতে সাম্প্রদায়িক হিংসার (Haryana Violence) ঘটনায় প্রাণ হারান ৬ জন। ধর্মীয় স্থানে গোলাগুলি চলে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাড়িঘর। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘৃণা ভাষণ রুখতে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন সাংবাদিক শাহীন আব্দুল্লা। হেট স্পিচ নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র যাতে ব্যবস্থা নেয়, সে বিষয়ে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন তিনি। শাহীন জানান, ঘৃণা ভাষণের জেরেই কোনও একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, আর্থিকভাবে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে, সামাজিকভাবে বয়কট করা হচ্ছে।
তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতির সঞ্জীব খান্না এবং এসভিএন ভাটির বেঞ্চ কড়া ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারকে দেশ জুড়ে ঘৃণা ভাষণে রাশ টানার নির্দেশ দেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি থাকা প্রয়োজন। তার জন্য সমস্ত সম্প্রদায়কেই দায়িত্বশীল হতে হবে। 'ঘৃণা ভাষণের সমস্যা একেবারেই ভাল নয়, এবং তা মেনে নেওয়া যায় না,' জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এ ব্যাপারে ভিডিও সহ সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এবং উপাদান একত্রিত করে নোডাল অফিসারের কাছে তা জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।
শাহীন তাঁর আবেদনে লিখেছিলেন, 'আমরা আশা করি এবং বিশ্বাস করি, সরকার এবং পুলিশ এটা নিশ্চিত করবে, যে পরিচয় নির্বিশেষে কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনও ঘৃণমূলক বক্তৃতা করা হবে না এবং কোন শারীরিক সহিংসতা বা সম্পত্তিহানির ঘটনাও ঘটবে না।'
এর জবাবের বিচারপতি খান্না জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট পুলিশ প্রধানকে একটি কমিটি গঠন করতে বলবে, যে কমিটি বিভিন্ন এলাকার থানাগুলিতে জমা করা ঘৃণা ভাষণের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবে।
রাতের কলকাতায় ফের আগুন কাগজের গুদামে! ঘটনাস্থলে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন