দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজ্য সরকার ফসল কিনতে টালবাহানা করছে। এই অভিযোগে শনিবার দুপুরে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী এম এল খট্টরের (M L Khattar) বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান হাজারখানেক কৃষক। এরপর বিকালেই খট্টর ঘোষণা করলেন, রবিবার থেকেই তাঁর সরকার ধান ও মিলেট কিনতে শুরু করবে। তিনি বলেন, "এবছর বর্ষা আসতে দেরি হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার স্থির করেছিল, ১ অক্টোবরের বদলে ১১ অক্টোবর থেকে ধান কেনা শুরু হবে। কিন্তু দ্রুত শস্য কেনার জন্য অনেকে দাবি জানাচ্ছেন। তাই আমরা স্থির করেছি, আগামীকাল থেকেই ধান কেনা শুরু হবে।"
এদিন কেন্দ্রীয় খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী অশ্বিন চৌবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন খট্টর। তারপরই ফসল কেনার দিন এগিয়ে দেওয়া হয়।
এদিন এক ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, খট্টরের বাড়ির সামনে হলুদ রং-এর ব্যারিকেডগুলি ফেলে দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা তার ওপরে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী দূরে দাঁড়িয়ে আছে। একসময় কৃষকদের বিরুদ্ধে জলকামান ব্যবহার করা হয়।
শস্য কেনার দিন এগিয়ে নিয়ে আসার জন্য শুক্রবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, সরকার দ্রুত না কিনলে বিপুল পরিমাণ ধান নষ্ট হবে। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে মান্ডিগুলিতে লক্ষ লক্ষ কুইন্টাল ধান আসছে। ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে হরিয়ানায় ধান কেনা হয়নি। মান্ডিগুলিতে অন্তত ২০ লক্ষ কুইন্টাল ধান পড়ে আছে।
সুরজেওয়ালার কথায়, "আম্বালা থেকে সাড়ে চার লক্ষ টন ধান এসেছে। কুরুক্ষেত্র থেকে এসেছে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টন। যমুনানগর থেকে এসেছে ২.২৫ লক্ষ টন। কাইথাল থেকে এসেছে দু'লক্ষ টন। কারনাল থেকে এসেছে ১.৭৫ লক্ষ টন।" সুরজেওয়ালার অভিযোগ, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল কেনা বন্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্র হয়েছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, এবছর ফসল কেনার জন্য কোনও নির্দেশিকা তৈরি করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।
তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে গত নভেম্বর মাস থেকে আন্দোলন করছেন এক বড় সংখ্যক কৃষক। তাঁদের অভিযোগ, নতুন আইনগুলি কার্যকরী হলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল কেনা বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "কৃষকদের স্বার্থেই সংস্কার করা হচ্ছে। যাঁরা এখন ওই সংস্কারের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের দেখলেই বুঝতে পারবেন রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি কাকে বলে।"
অন্য প্রসঙ্গে মোদী বলেন, অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ, সংস্কার এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আমরা যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, তা বিশেষজ্ঞরা অনুমোদন করেছেন। আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।