দ্য ওয়াল ব্যুরো : হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তাঁর দল বিজেপির কয়েকজন নেতার সঙ্গেও কথা বলেন খট্টর। পরে মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, আগামী দিনে বিক্ষোভকারীরা সম্পত্তির ক্ষতি করলে তাদের থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। সেজন্য শীঘ্রই আইন হবে হরিয়ানায়।
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে যে রাজ্যগুলিতে বিক্ষোভ বড় আকার নিয়েছে, তার অন্যতম হল হরিয়ানা। সেখানে বিধানসভার আগামী অধিবেশনেই ওই বিল আসবে বলে জানা গিয়েছে। খট্টর ওই মন্তব্য করার পরেই নেট দুনিয়ায় প্রতিবাদ শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, কৃষকদের আটকানোর জন্য রাস্তায় যে গর্ত খোঁড়া হয়েছিল, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
খট্টরকে এদিন কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "কেউ কেউ শুধু প্রতিবাদের জন্যই প্রতিবাদ করে। কারণ এক্ষেত্রে তাদের কায়েমি স্বার্থ রয়েছে।" পরে তিনি বলেন, "কৃষি আইন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হওয়া উচিত। যদি আইনে কোনও সংশোধন করার প্রয়োজন হয়, সরকার তৈরি আছে।"
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে 'আন্দোলনজীবী'-দের নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বিদেশি ধ্বংসাত্মক মতাদর্শ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কৃষক নেতাদের ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের দেশ শিখদের নিয়ে গর্বিত। তাঁরা দেশের জন্য সবকিছুই করেছেন।" একইসঙ্গে তিনি বলেন, একধরনের লোক সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা হল 'আন্দোলনজীবী'।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, "আমরা আলোচনার জন্য তৈরি। আমি আপনাদের এখানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।" কৃষকদের আশঙ্কা, নতুন কৃষি আইন কার্যকরী হলে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) পাওয়া যাবে না। মোদী এদিন বলেন, "এমএসপি থা, এমএসপি হ্যায় আউর এমএসপি রহেগা। কেউ যেন ভুল খবর না রটান।" পরে তিনি বলেন, "আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। পিছিয়ে গেলে চলবে না। কৃষিতে সংস্কার করে দেখতে হবে কী ফল হয়?"
মোদীর বক্তব্য, বিরোধীরা কৃষক আন্দোলন নিয়ে অনেক কথা বলছেন, কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চুপ করে আছেন। তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের পরে প্রান্তিক চাষির সংখ্যা ৫১ শতাংশ থেকে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাঁর কথায়, "দেশের ৮৬ শতাংশ চাষির জমির পরিমাণ দুই হেক্টরের কম। তার মানে ১২ কোটি চাষি প্রান্তিক অবস্থানে আছেন। এই চাষিদের প্রতি কি দেশের কোনও দায়িত্ব নেই?"
কেন্দ্রীয় সরকার প্রান্তিক চাষিদের জন্য কী প্রকল্প নিয়েছে তা তুলে ধরেন মোদী। পরে তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারই কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের কথা বলেছে। কিন্তু এখন তারা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আপনারা সরকারের সমালোচনা করছেন করুন। কিন্তু সেই সঙ্গে চাষিদের বুঝিয়ে বলুন, কৃষিক্ষেত্রে কী সংস্কার করলে তাঁদের ভাল হতে পারে।"