
শেষ আপডেট: 16 July 2023 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুকুমার রায় হযবরল-তে বুড়োর মুখে সংলাপ বসিয়েছিলেন, 'তা নয় তো কেবলই বেড়ে চলবে নাকি? …চল্লিশ বছর হলেই আমরা বয়েস ঘুরিয়ে দিই। তখন আর একচল্লিশ বেয়াল্লিশ হয় না-- উনচল্লিশ, আটত্রিশ, সাঁইত্রিশ করে বয়েস নামতে থাকে।' তার পরে দেখা যায়, গুপি-বাঘাও জোয়ান হতে চেয়েছিল (Reverses Ageing)। জোয়ান হওয়ার অমোঘ নেশায় পা দিয়েছিল ভুল ফাঁদেও। 'আশিতে আসিও না' সিনেমায় আবার গ্রামের এক পুকুরে ডুব দিলেই ফিরে পাওয়া যাচ্ছিল যৌবন, তাই কাতারে কাতারে মানুষ ছুটে আসছিলেন একটি ডুব দিতে। মোট কথা, যৌবনের প্রতি অমোঘ টান মানুষের চিরন্তন। একটা সময়ের পরে প্রায় প্রতিটি মানুষই বোধহয় অন্তত একবারের জন্য ভাবেনই, ইস… বয়সটা যদি থামিয়ে রাখা যেত!
তবে এসবই কল্পকাহিনি এবং আফশোসের সমাহার। বয়সের কাছে পার পায় না কেউই, অন্তত বিজ্ঞান তাই বলে। কিন্তু বিজ্ঞানের পরিধি যে আদতেই অসীম, তা প্রমাণ করতে বিজ্ঞানই যেন বারবার বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে। এই যেমন বসের অঙ্কেও তাই! হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক (Harvard Researchers) দাবি করেছেন, তাঁদের আবিষ্কার করা 'ওষুধ' বয়স কমানোর মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
গত ১২ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওই গবেষকরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি বিশেষ ট্যাবলেট আবিষ্কার করেছেন তাঁরা। হার্ভার্ডের গবেষক ডেভিড সিনক্লেয়ার দাবি করেছেন, ওই ট্যাবলেট খেলেই শারীরিক ও মানসিকভাবে বয়স পিছনের দিকে হাঁটতে শুরু করবে। সত্যিই! ফলে বার্ধক্যের সমস্যা আর শরীরে থাবা বসাতে পারবে না। এটিকে 'কেমিক্যাল ককটেল ওষুধ' বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই নানা রকমের ওষুধবিষুধ নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছিল এই গবেষকের দল। শেষে এসেছে সাফল্য। তাঁরা দাবি করেছেন, ট্রায়ালের মাধ্যমে তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন, এই ওষুধ খেলেই মানবদেহের বার্ধক্যজনিত সমস্যা কমে গিয়ে বয়স উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করবে।
এতদিন অবশ্য বয়স কমানোর জন্য 'জিন থেরাপি' বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ছিল বিজ্ঞানী মহল। কিন্তু তা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ, খরচসাপেক্ষ এবং ঝুঁকিসাপেক্ষ একটা পদ্ধতি। তা দিয়ে বয়সকে খানিকটা বেঁধে রাখা যেত বটে। তবে কেমিক্যাল ককটেলের তৈরি ওষুধ টপ করে মুখে ফেললেই বয়স কমে যাবে, এমনটা যেন অবিশ্বাস্য!
প্রাথমিক ভাবে হার্ভার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট পাঁচ থেকে সাতটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে এই ককটেলে। এই ওষুধগুলি এমনিতে বয়স্ক মানুষদের শারীরিক ও মানসিক নানা রোগের প্রতিকার চিকিৎসায় আলাদাভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে সব ওষুধকে একসঙ্গে মিলিয়ে আশ্চর্য ফল পেয়েছেন হার্ভার্ডের গবেষকরা!
এই কাজ অবশ্য সহজে হয়নি,বহু ট্রায়াল ও এরর চলেছে তিন বছর ধরে। মূলত সেই অণু তৈরির কাজ করা হচ্ছিল, যা কোষের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বাধা দিয়ে ত্বকে যৌবনের জেল্লাকে ফিরিয়ে আনতে পারে। অবশেষে মিলেছে সবুজ সঙ্কেত। এর পরে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, দেহের কোন অঙ্গে কীভাবে এই ওষুধ প্রয়োগ করলে ফল মিলবে, তা খুঁজে বের করা। সব দেখেশুনে তাঁরা জানিয়েছেন, স্নায়ু, মস্তিষ্ক, কিডনি ও মাংসপেশিতেই কাজ করবে এই কেমিক্যাল ককটেল ওষুধ।
তবে এই ওষুধের ট্রায়াল আপাতত কেবল ইঁদুর ও বাঁদরের উপরেই হয়েছে। তাতে আশ্চর্য সুফল মিলেছে বলে দাবি ওই গবেষকদের। তাদের দৃষ্টিশক্তি ও আয়ু দুইই বেড়েছে। তবে এখনও মানবদেহে এই ওষুধ পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। এই পরীক্ষা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। তবে আগামী বছরেই মানবদেহে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে।
শিয়ালদহ স্টেশনে লক্ষ যাত্রীকে পথ দেখান জন্মান্ধ পরিতোষ, মাইকের আড়ালে ৩৪ বছরের কেরিয়ার