দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বারের চেষ্টা। কিন্তু আত্মবিশ্বাসটা থমকে যায়নি। জেদ আর পরিশ্রম ছিল অদম্য। তাতেই ধরা দিয়েছে স্বপ্ন। বিএসএফ জওয়ান এখন আইএএস-এর প্রশিক্ষণের জন্য লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ভর্তি হতে মুসৌরি রওনা দিয়েছেন। সিভিল সার্ভিসের কঠিন পরীক্ষায় মেধার দৌড়ে সফল হয়েছেন অনেকেই। তবে এই বিএসএফ জওয়ানের গল্প মুগ্ধ করেছে দেশবাসীকে।
হরপ্রীত সিং। লুধিয়ানার গ্রিন গ্রোভ পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা। বাবা ব্যবসায়ী। মা স্কুল শিক্ষিকা। ইলেকট্রনিক্সে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন। ভালো ফল করে বিএসএফের চাকরি। কিন্তু মন মানেনি। বরাবরই তাঁর লক্ষ ছিল ব্যতিক্রমী।
ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) পরীক্ষায় হরপ্রীতের র্যাঙ্ক ১৯। সাফল্যটা কিন্তু সহজে আসেনি। হরপ্রীত জানিয়েছেন, আইএএস পাওয়ার আগে ২০১৭ সালে চতুর্থ বারের চেষ্টার সময় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তাঁর র্যাঙ্ক ছিল ৪৫৪। ইন্ডিয়ার ট্রেড সার্ভিসে (আইটিএস) সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। অন্য কেউ হলে হয়তো এই সুবর্ণ সুযোগই দু’হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরত। তবে হরপ্রীত সেটা করেননি। কারণ আইএএস তাঁকে হতেই হতো। সেটাই ছিল একমাত্র পাখির চোখ। সে চেষ্টাটা যতদিনেরই হোক না কেন।
‘‘ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে ২০০৬ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট হিসেবে বিএসএফে যোগ দিয়েছিলাম। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে ছিল আমার পোস্টিং। নানা সময়ে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তাও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি,’’ বলেছেন হরপ্রীত। একদিকে সীমান্তে প্রহরা, অন্যদিকে পড়াশোনা, হরপ্রীতের লড়াই অনুপ্রেরণা দেবে তরুণ সমাজকে।
সাতাশের যুবক জানিয়েছেন, হাতে যেটুকু সময় থাকত, তার মধ্যেই নোটস বানিয়ে রাখতাম। পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপরই ছিল ঝোঁক। এই বিষয়ের উপর যাবতীয় খুঁটিনাটি আয়ত্ত করে ফেলেছিলেন খুব কম দিনেই। বাকিটা ছিল প্র্যাকটিস। যেমন সময় হাতে থাকত তাতেই নিজেকে নিরিখ পরখ করে নিতেন হরপ্রীত।
২০১৭ সালে আইটিএস পাওয়ার পরে উদ্যোগটা আরও বেড়ে যায়। বিএসএফের চাকরি ছেড়ে তিনি তখন পুরোপুরি পরবর্তী সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। ২০১৮ সালের পরীক্ষায় একবারেই বাজিমাত করে দেন। ১৯ র্যাঙ্ক করে বুক ফুলিয়ে প্রাক্তন বিএসএফ জওয়ান বলেছেন, ‘‘স্বপ্নকে তাড়া করা কখনও ছেড়ো না। পথ যতই দুর্গম হোক। পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে সাফল্য ধরা দেবেই।’’