
শেষ আপডেট: 25 April 2022 10:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রমজানের মাসেই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির (Harmony) সুন্দর এক নজির। পাশের বাড়ির হিন্দু মেয়ে পূজার বিয়েতে ঘর খুলে দিলেন পারভেজরা। পড়শি মুসলিম পরিবারটি শুধু বিয়ের জন্য নির্দ্বিধায় নিজেদের ঘরই ছেড়ে দেননি, সেই সঙ্গে বিয়ের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে আনন্দে যোগ দিয়ে ভরপুর আনন্দও করেছেন। ঘটনাস্থল উত্তরপ্রদেশের আজমগড়। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কারণে যে রাজ্য প্রায়ই শিরোনামে থাকে সে রাজ্যেই দারুণ কাণ্ড ঘটিয়েছেন ভিন্ ধর্মের দুই পড়শি পরিবার।
দু'বছর আগে কোভিডের প্রথম ঢেউ আছড়ে পরার সময় পূজা তাঁর বাবাকে হারায়। পূজার কাকা রাজেশ চৌরাশিয়া বলেন, বিয়ের জন্য মণ্ডপ ভাড়া করার মতো আর্থিক সামর্থ তাঁদের পরিবারের ছিল না। ঘরেও যথেষ্ট জায়গা নেই। তাই শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়েই তাঁরা প্রতিবেশীদের বিষয়টা জানান।
তিনি বলেন, "যখনই তিনি পাশের বাড়ির পারভেজকে পুরো বিষয়টি বলেন, পারভেজ কোনওরকম প্রশ্ন ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাড়ির উঠোন এবং কয়েকটি ঘর পূজার বিয়ের জন্য ব্যবহার করতে দিয়ে দেন। এর পরে তাঁরা বিয়ের মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে বিয়েতে আসা অতিথিদের আপ্যায়ণ করা, তাদের যত্ন করা, খেয়াল রাখার দায়িত্বও নিয়ে নেন।"
দু'বাড়ির পুরুষেরা যখন আত্মীয়স্বজনের দেখভাল করা, মণ্ডপের খুঁটিনাটি তৈরি করা-- এই সমস্ত দিকগুলোর দিকে খেয়াল রাখছিলেন, তখন পারভেজদের বাড়ির মহিলা সদস্যরাই পূজার বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে গানে, গল্পে, আড্ডায়, নাচে মেতেছিলেন। বিয়ের আনন্দ অনুষ্ঠানে যেন কোনও রকম ত্রুটি না হয়, সেজন্য সবদিকে খেয়ালও রাখছিলেন বাড়ির লোকের মতোই। সবাই মিলে একসঙ্গে যখন বিয়ের অঙ্গন সাজাচ্ছেন, তখন বোঝার উপায় নেই কে হিন্দু আর কে মুসলিম!
চৌরাসিয়া পরিবারের সদস্যরা বলছেন, পারভেজরা পূজার বিয়েতে সোনার হার উপহার দিয়েছেন। কিন্তু এই উপহারের চেয়েও বড় কথা, তাঁরা পুজাকে নিজের মেয়ের মতোই অফুরান ভালবাসা দিয়েছেন, যার মূল্য হয় না।
পারভেজের মা নাদিরা দেবী বলেন, পূজা তাঁদের নিজের মেয়ের মতোই। পূজার বিয়েতে তাই তাঁরা যতটা পেরেছেন সবটা করেছেন। এটা করতে পেরে তাঁরা খুব খুশি। রমজানের এই পবিত্র মাসে নিজের মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার মত ভাল কাজ আর হতে পারে না।
খেলার মাঠ দখল করে থানা নির্মাণ! প্রতিবাদ করায় দিনভর আটক ঢাকার সমাজকর্মী মা ও ছেলে