
শেষ আপডেট: 18 January 2023 06:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭ বছরের সন্তান মানসিকভাবে অসুস্থ (mentally challenged)। আর সেই কারণেই তাকে সহ্য করতে পারত না বাবা, ঠাকুমা এবং পিসি। অসুস্থ সন্তানকে দেখভাল করার জন্য বাপের বাড়ির সাহায্য নিতেন মহিলা, যা একেবারেই পছন্দ ছিল না তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। ছেলেকে ত্যাগ করে নতুন করে সন্তান নেওয়ার জন্য নিয়মিত চাপ দেওয়া হত তাঁর উপর। তা সহ্য করতে না পেরেই আবাসনের ২২ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক মহিলা (Woman Jumps off 22 Floors)।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের কুকাটপল্লী হাউজিং বোর্ড কলোনি থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার বাসিন্দা শ্রীধর নামে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রামা ভেঙ্কটলক্ষ্মী গণপথু স্বাতীর। বর্তমানে তাঁরা হায়দরাবাদের কুকাটপল্লী হাউজিং বোর্ড কলোনি থানা এলাকায় থাকছিলেন। বিয়ের ৩ বছর পর একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন স্বাতী। কিন্তু সেই সন্তান মানসিকভাবে অসুস্থ জানতে পারার পর একবারের জন্যও ছেলেকে দেখতে আসেননি স্বাতীর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
স্বাতীর ভাই হেমন্ত জানিয়েছেন, ছেলে হওয়ার পর প্রথম তিন বছর তাকে দেখতেও আসেননি শ্রীধর। উল্টে তিনি ও তাঁর বাড়ির লোকজন স্বাতীকে চাপ দিতেন অসুস্থ সন্তানকে অনাথ আশ্রমে দিয়ে এসে নতুন করে সন্তান নেওয়ার জন্য। স্বাভাবিকভাবেই তাতে রাজি হননি স্বাতী। তিনি হাজার বোঝানো সত্ত্বেও শ্রীধর ও তাঁর বাড়ির লোক অসুস্থ ছেলের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। তাই বাপের বাড়ির থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে একাই ছেলেকে বড় করছিলেন স্বাতী, যা পছন্দ ছিল না শ্রীধরের।
হেমন্ত আরও জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আগেই স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর দিদি। পুলিশ এই ব্যাপারে শ্রীধরকে ফোন করলে তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে তিনি ভালভাবেই স্ত্রী এবং সন্তানের দেখাশোনা করবেন। হেমন্ত পুলিশকে জানিয়েছেন, রবিবার দিদিকে একাধিকবার ফোন করেও পাননি। স্বাতীর ফোন সুইচড অফ ছিল। পরে শ্রীধর তাঁকে ফোন করে খবর দেন, স্বাতী আত্মহত্যা করেছেন। এরপরেই থানায় খবর দেন হেমন্ত।
নিরন্তর মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই স্বাতী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনুমান পুলিশের। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রবিবার রাত ৯.৩০ নাগাদ স্বাতী আবাসনের ২৩ তলায় উঠে যান। তারপর নেমে আসেন ২২ তলায়। সেখান থেকেই নীচে ঝাঁপ দেন তিনি। একতলার করিডোরে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয় তাঁর।
স্বাতীর বাবা-মা এবং হেমন্তের অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীধর, তাঁর বাবা-মা, তাঁর বোন ও ভগ্নীপতির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্কুল ছাত্রীদের দেখলেই লুঙ্গি তুলে অশালীন অঙ্গভঙ্গি, যুবককে বেঁধে বেধড়ক মারল এলাকাবাসীরা