অভিনব অস্ত্রোপচার! হনুমান চল্লিশা পড়ছেন রোগী, খুলি কেটে টিউমার বার করলেন চিকিৎসক!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রেন টিউমারের মতো জটিল অস্ত্রোপচার সেরে ফেললেন চিকিৎসকেরা, কিন্তু অজ্ঞান করা হল না তাঁকে। আর এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রক্ষা করল হনুমান চল্লিশা!
এমনটাই ঘটেছে জয়পুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে! এক দিকে চলছে রোগীর ব্রেন টিউমার
শেষ আপডেট: 28 December 2018 07:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রেন টিউমারের মতো জটিল অস্ত্রোপচার সেরে ফেললেন চিকিৎসকেরা, কিন্তু অজ্ঞান করা হল না তাঁকে। আর এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রক্ষা করল হনুমান চল্লিশা!
এমনটাই ঘটেছে জয়পুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে! এক দিকে চলছে রোগীর ব্রেন টিউমারের সার্জারি, অন্য দিকে হনুমান চল্লিা আওড়ে চলেছেন তিনি। সবটাই ঘটছে জ্ঞানত। একটু এদিক ওদিক হলেই বড় বিপদের সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু সমস্ত আশঙ্কা মিথ্যে করে সফল হয়েছে অস্ত্রোপচার।
চিকিৎসকেরা জানান, বিকানিরের দুঙ্গরগড়ের বাসিন্দা ৩০ বছরের এক যুবকের গ্রেড ২ ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে বায়পসির পরে৷ এর পরে বেশ কয়েকটি সার্জারিও হয়৷ কিন্তু রোগীর মাথার এক দিকে টিউমার ছিল৷ ফলে কথা বলতে অসুবিধা হতো ওই যুবকের৷ তখনই সিদ্ধান্ত হয়, ওই টিউমার বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু এই সার্জারির সময় রোগীকে অজ্ঞান করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ বিষয়টি শুনে স্বাভাবিক ভাবেই খুব ভয় পেয়ে যান ওই যুবক। অপারেশন করাতে রাজিই হননি তিনি।
তার পরে অনেক বুঝিয়ে তাঁকে রাজি করানো হয়। জানানো হয়, একমাত্র এভাবে অস্ত্রোপচার করলেই তাঁর বাকশক্তি নষ্ট হবে না। তাঁকে শুধুমাত্র লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়া হয়। নিউরো সার্জারির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা কে কে বনসাল বলেন, "ওঁর ব্রেনের যে অংশে টিউমার হয়েছিল, সেই অংশ মানুষের স্পিচ কনট্রোল করে। এই অস্ত্রোপচার খুবই জটিল ছিল। কোনও অংশের সামান্যতম ক্ষতি হলেও ওঁর কথা বলার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারত। তাই এভাবেই চলে দীর্ঘ অপারেশন। টানা তিন ঘণ্টা উনি হনুমান চালিসা পাঠ করে গিয়েছেন। এর কারণ হল, পাঠ করার সময়ে ওঁর কথা বলায় যদি সামান্য অস্বাভাবিকতা আমাদের নজরে পড়ত, তা হলে তত্ক্ষণাত্ আমরা ঠিক করে দিতে পারতাম।"
চিকিৎসা পরিভাষায় এই ধরনের সার্জারিকে অ্যাওয়েক ক্র্যানিওটমি বলে, যা বিদেশে প্রচলিত হলেও, এ দেশে এই প্রথম সফল হল বলে দাবি করেন চিকিৎসকেরা। তবে এমন অস্ত্রোপচার এই প্রথম নয়। এর আগেও বেঙ্গালুরুর চিকিৎসকেরা এমন অস্ত্রোপচার করেছেন। সেই সময়ে রোগী অপারেশন টেবিলে শুয়ে গিটার বাজিয়েছিলেন।

১৪ নভেম্বর অস্ত্রোপচারটি করা হয়। কিন্তু তখন এ কথা ডাক্তাররা কাউকে জানতে দেননি। এক মাসের মাথায় এমআরআই করার পরেই যখন বোঝা যায় যে অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ সফল, তখনই তাঁরা এই অভিনব অস্ত্রোপচারের কথা সবাইকে জানান।