বয়সজনিত কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। ভালোই কাটছিল সময়। ছন্দ পতন ঘটে পড়শি ও পরিজনদের সঙ্গে পূণ্য অর্জনে কুম্ভ স্নানে গিয়ে। অবশেষে হ্যাম রেডিওর সাহায্যে বাড়ি ফিরলেন।

শেষ আপডেট: 28 May 2025 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কুম্ভ মেলায় হারিয়ে পাওয়া নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে। বিহারের বৃদ্ধের হারানো প্রাপ্তিও সিনেমার থেকে কম নয়।
পরিবার পরিজনদের নিয়ে কুম্ভ মেলায় পূণ্য স্নান করতে প্রয়াগরাজে গিয়েছিলেন বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা ওয়াকিল মণ্ডল (৮৫)। সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন গত জানুয়ারি মাসে। সে দিন আগুন লেগেছিল কুম্ভ মেলায়। আগুনে পুড়ে গিয়েছিল সাধুদের একাধিক আখড়া। অনেকের মৃত্যু হয়েছিল। নিখোঁজ হয়েছিলেন অনেকে। হারিয়ে গিয়েছিলেন ৮৫ বছরের বৃদ্ধ ওয়াকিলও। সেই ঘটনার পর কেটে গেছে চার মাস। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আত্মীয় স্বজনরা হাল ছেড়ে দেন।
মঙ্গলবার হ্যাম রেডিও যখন যোগাযোগ করল পরিবারের সঙ্গে তখন তাঁরা অবাকই হয়েছিলেন। এও সম্ভব!
গত ২৫ মার্চ রাতে শ্রীরামপুর জি টি রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়। চলার বা কথা বলার কোনও ক্ষমতাই তাঁর ছিল না। রাস্তার পাশে পড়েছিলেন। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে তাঁকে ভর্তি করা হয় শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে। তখনও তাঁর নাম পরিচয় জানা যায়নি। সেই অবস্থাতেই চলে চিকিৎসা। কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও, নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারেননি। স্মৃতি লোপ পেয়েছে তাঁর।
মঙ্গলবার হ্যাম রেডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওয়ালস হাসপাতালের সহকারী সুপার বাসুদেব জোয়ারদার। ফোন করেন হ্যাম রেডিওর ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাসকে। বৃদ্ধর বিষয়টি জানান। শুরু হয় রেডিও ক্লাবের কাজ। বৃদ্ধের ছবি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে থাকা ক্লাব সদস্যদের মধ্যে।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যায় বৃদ্ধের খোঁজ। জানা যায় বৃদ্ধের নাম ওয়াকিল মণ্ডল। বাড়ি বিহারের ভাগলপুর জেলার সেকপুরা কুলকুলিয়া এলাকার কাহেলগাঁও গ্রামে। জানা যায় গ্রামে চৌকিদারের কাজ করতেন বৃদ্ধ। বছর তিনেক আগে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বয়সজনিত কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। ভালোই কাটছিল সময়। ছন্দ পতন ঘটে পড়শি ও পরিজনদের সঙ্গে পূণ্য অর্জনে কুম্ভ স্নানে গিয়ে। অবশেষে হ্যাম রেডিওর সাহায্যে বাড়ি ফিরলেন।
কিন্তু সেখান থেকে কীভাবে শ্রীরামপুরে এলেন সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি বৃদ্ধ। মঙ্গলবার বিহার থেকে ট্রেন ধরে বৃদ্ধের চার ছেলে। বুধবার সকালে শ্রীরামপুরে এসে পৌঁছয়। তারপর হাসপাতাল থেকে কুম্ভে হারানো বাবাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।