
শেষ আপডেট: 28 June 2020 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মাসেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্ত হয়েছে চিন। কিন্তু সেখানে ফের দ্বিতীয় বার হানা দিয়েছে অসুখ। বেজিং আগেই জানিয়েছিল, বেশ কিছু এলাকায় ফের লকডাউন চালু করা হয়েছে। এবার তার পরিধি ও তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। জানা গেছে, বেজিং ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফের নতুন করে ঘরবন্দি করা হয়েছে ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষকে!
রবিবার বেজিং ও তার পার্শ্ববর্তী হেবেই প্রদেশে কড়া লকডাউন জারি করা হয়েছে। বেজিংয়ের স্বাস্থ্য দফতরের সরকারি আধিকারিকরা সেদেশের সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, উহানে শুরু হয়েছিল করোনাভাইরাসের আক্রমণ। সংক্রমণও সবচেয়ে বেশি ছিল সেই প্রদেশেই। উহান থেকে বেজিং প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে। সেখানেও ফের ধরা পড়েছে করোনা, লকডাউনও জারি করা হবে শীঘ্রই। কিন্তু এইবার অর্থাৎ দ্বিতীয় দফায় বেজিংয়ে সংক্রমণের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। প্রথম থেকেই কড়া হাতে হাল ধরেছে চিনা প্রশাসন।
রাজধানী শহরে সংক্রমণ ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিবহনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় রাজধানী শহরে। কিন্তু আজ রবিবার থেকে তা আরও কড়া ও নিয়মমাফিক পালন হতে চলেছে। জানা গেছে, সংক্রামিত এলাকার প্রতিটি বাড়ি থেকে শুধু ১ জনকে অত্যাবশ্যকীয় খাবার, ওষুধ কিনতে বেরোনোর জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্বিতীয় দফার এই সংক্রমণ যদি আগের মতোই ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়, তাহলে চিনের বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অর্থনীতিও।
প্রথমবার করোনামুক্ত হওয়ার পরে ফলে বিমান চলাচল শুরু হলে, বাইরে থেকে আসা কোনও ব্যক্তির মাধ্যমে নতুন করে করোনা সংক্রমণ আসে চিনে। বিমানবন্দরের স্ক্রিনিংয়ে ধরা পড়েনি তাঁর করোনা সংক্রমণ। নিজের অজান্তেই অসুখ ছড়িয়ে বসেন তিনি।
এর পরে বেজিংয়ের পাইকারি বাজার থেকে এই সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে ক্লাস্টার আকারে। তার পরই সেই বাজার ও বাজার সংলগ্ন এলাকাগুলিকে সিল করে দেওয়া হয়। এমনকি সেই বাজারে আসা প্রতিটি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনেও পাঠানো হয়। তবে চালু ছিল খাবার ডেলিভারি সংস্থার সার্ভিস। তাদেরই কোনও সদস্যর থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে বসতি এলাকায়।
সংক্রামিত ওই ডেলিভারি বয় যতগুলি বাড়িতে খাবার সরবরাহ করেন সেই সব বাড়িতে গিয়ে চিনা সরকারের তরফে করোনা পরীক্ষা করা হয়। এপর্যন্ত চিনের রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে একশোর বেশি। সেইসঙ্গে বেজিংয়ের বিভিন্ন বাজার, সেলুন, পার্লার, হোটেল, রেঁস্তরার কর্মীদের নমুনা পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে লাগাতার।
তবে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ নিয়ে এই সতর্কতার বার্তা অবশ্য আগেই জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। সংস্থার জরুরি কার্যক্রমের প্রধান ডাঃ মাইক রায়ান দেশ সচল রাখার স্বার্থেই অনন্ত লকডাউন তোলার প্রয়োজনের কথা শিকার করেও কড়া ভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন, লকডাউন তুললে সংক্রমণ নতুন করে ছড়িয়ে পড়া রুখতে ‘চূড়ান্ত নজরদারি’ প্রয়োজন। কারণ সংক্রমণের ‘ক্লাস্টার’গুলি যদি থেকে যায়, তাহলে রোগটি নিম্নস্তরে চলতেই থাকবে। ফলে ভাইরাসটি আবার আক্রমণ করবে পুরোদমে, এমন ঝুঁকি থেকেই যায়।
একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই লকডাউন তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে গত কয়েক দিন ধরেই। কিন্তু হু-এর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে ভাইরাসটিও চরিত্র বদলাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। ফলে নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর খবর আসছে।