দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লি সীমান্তে চলছে কৃষক বিক্ষোভ। সোমবার বিজেপির প্রয়াত নেতা অরুণ জেটলির জন্মদিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজেরই দলকে বিঁধলেন রাজ্যসভা সদস্য সুশীল মোদী। তিনি বলেন, আজ যদি অরুণ জেটলি বেঁচে থাকতেন, তাহলে কৃষক বিক্ষোভ এতদিন চলতেই পারত না। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের সঙ্গে পাঁচ দফা আলোচনা করেছে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও কৃষকদের আন্দোলন তুলে নিতে রাজি করাতে পারেননি। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কৃষকদের দাবি খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে।
এদিন সকালে বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী বলেন, "আমি নিশ্চিত যে, অরুণ জেটলি বেঁচে থাকলে কৃষকদের সমস্যার একটা সমাধান পাওয়া যেত।" বিজেপি সূত্রে খবর, শীঘ্রই কেন্দ্রে বড় দায়িত্ব পেতে চলেছেন সুশীল মোদী। তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও করা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এদিন সকালে টুইট করে দলে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী অরুণ জেটলির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি লিখেছেন, "আমার বন্ধু অরুণ জেটলিজির জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করি। তাঁর ঘনিষ্ঠরা সকলেই তাঁকে মিস করছেন। তিনি দেশের উন্নতির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন।"
২০১৯ সালের ২৫ অগাস্ট অরুণ জেটলি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। এদিন ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে তাঁর মূর্তির আবরণ উন্মোচন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জেটলি ছিলেন দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।
স্টেডিয়ামে জেটলির মূর্তি বসানো নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ক্রিকেট টিমের প্রাক্তন ক্যাপটেন বিষেণ সিং বেদি প্রশ্ন তুলেছেন, যে ক্রিকেটাররা দিল্লিকে এত সম্মান এনে দিয়েছেন, তাঁদের কাউকে স্মরণ না করে আচমকা এক নেতার মূর্তি কেন স্থাপন করা হবে?
বেদি রীতিমতো তোপ দেগে বলেছেন, ‘‘দিল্লিতে একজন ক্রিকেটারের থেকে কোনও নেতাকে সম্মান বেশি দেওয়া হয়। যাঁরা রাজ্যের হয়ে সম্মান এনে দিলেন, কিংবা দেশকে যাঁরা গর্বিত করেছেন, তাঁদের কথা ভাবাই হয় না দিল্লিতে।’’ সেই হিসেবেই প্রাক্তন স্পিনার জানিয়েছেন, ‘‘আমার নামে স্ট্যান্ড যেন কোটলার গ্যালারি থেকে তুলে নেওয়া হয়। না হলে আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।’’ এমনকি আগামী দিনে দিল্লি ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথাও বিশেষ ভাবে বলেছেন।