দ্য ওয়াল ব্যুরো : আস্থাভোটে বিদায়ের সুর শোনা গেল কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর মুখে। তিনি বুধবার অবধি বলে এসেছেন, বিধানসভায় গরিষ্ঠতার প্রমাণ দেবেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার তিনি বিধানসভায় বললেন, আমাদের সরকার টিকবে কি টিকবে না, তা বড় কথা নয়, গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।
এদিন বেলা ১১ টায় আস্থাভোট পেশ করেন কুমারস্বামী। শাসক জোটের পক্ষে বক্তা আছেন ২৬ জন। ফলে বৃহস্পতিবারই আস্থাভোট নেওয়া যাবে কিনা স্পষ্ট নয়। এদিন কুমারস্বামী আস্থাভোটের প্রস্তাব পেশ করা মাত্র বিরোধী বিজেপি দলনেতা বি এস ইয়েদুরাপ্পা দাঁড়িয়ে বলেন, আস্থাভোটের প্রক্রিয়া এদিনই শেষ করতে হবে। সেই শুনে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করেন, মনে হচ্ছে বিজেপির খুব তাড়া আছে।
কর্ণাটকে সরকারে সংকটের জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছে শাসক কংগ্রেস জেডি এস জোট। তাদের বক্তব্য বিজেপি মন্ত্রিত্বের লোভ দেখিয়ে সরকার পক্ষের বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিয়েছে। তারা কর্ণাটকে ক্ষমতায় আসতে চায়। কুমারস্বামী তাই এদিন কটাক্ষ করে বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপি শীঘ্র রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাই আস্থাভোট নিয়ে এত তাড়াহুড়ো করছে।
জুলাই মাসে শাসক জোটের ১৬ জন বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। দুই নির্দল বিধায়ক ঘোষণা করেছেন, তাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করবেন। তবে বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়ক রামলিঙ্গ রেড্ডিকে এদিন বিধানসভায় দেখা গিয়েছে। অনেকের ধারণা তিনি শেষ মুহূর্তে শিবির বদল করে কংগ্রেসের দিকেই ফিরে এসেছেন। কিন্তু তার পরেও সংখ্যার হিসাবে বিজেপির থেকে অনেক পিছিয়ে আছে কংগ্রেস-জেডি এস জোট।
শাসক জোটের অন্যান্য বিধায়ক এদিন বিধানসভায় আসেননি। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, বিদ্রোহী বিধায়কদের ইস্তফা গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা স্পিকারই স্থির করবেন। একইসঙ্গে বিচারপতি বলেছিলেন, কাউকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিধানসভায় হাজির হতে বলা যায় না।
যাঁদের বিদ্রোহের জন্য কর্ণাটক সরকার বিপদে পড়েছে, তাঁরা এখন মুম্বইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে আছেন। বুধবারও তাঁরা বলেছিলেন, ইস্তফার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার প্রশ্ন নেই। কিন্তু পরে রামলিঙ্গ রেড্ডি জানান, তিনি ইস্তফার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন।
২২৪ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় শাসক জোটের বিধায়কের সংখ্যা ছিল ১১৮। বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ১০৫। দুই নির্দল বিধায়ক তাদের পক্ষে আছেন। কিন্তু এদিন বিধানসভায় শাসক জোটের বিধায়ক উপস্থিত আছেন ১০১ জন। ফলে শাসক জোট নিশ্চিতভাবেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে খবর পাওয়া গিয়েছে শ্রীমন্ত পাটিল নামে কংগ্রেসের আরও এক বিদ্রোহী বিধায়ক মুম্বইয়ের হোটেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তিনি এখন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।