
শেষ আপডেট: 29 April 2023 07:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়েন্দারা সবসময় বলেন, যত পাকা অপরাধীই হোক না কেন, কিছু না কিছু ভুল সে করবেই করবে। হয়তো এমন সামান্য কিছু সূত্র ছেড়ে যাবে সে, কিন্তু সেটুকুই তাকে খুঁজে বের করার জন্য যথেষ্ট। ঠিক যেমন এক সপ্তাহ আগেই নৃশংসভাবে খুন হওয়া গুরুগ্রামের বাসিন্দা ২৮ বছরের সোনিয়া শর্মার মৃতদেহের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সামান্য একটি পলিথিন ব্যাগই ধরিয়ে দিল তার খুনিকে (Gurugram Murder)।
গত ২১ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশের মানেসারের একটি ফার্মহাউস থেকে সোনিয়ার মুন্ডুহীন, পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তাঁর পা দুটিও কুপিয়ে কেটে ফেলা হয়েছিল (man cut wife into pieces)। সেই ঘটনার তদন্ত নেমে ওই ফার্ম হাউসেরই একটি ঘর থেকে একটি পলিথিনের প্যাকেট খুঁজে পান তদন্তকারীরা। সেটির উপর বিশাখাপত্তনমের একটি সংস্থার নাম লেখা ছিল।
খোঁজখবর করে জানা যায়, ওই সংস্থাটি ভারতীয় নেভিকে পলিথিন ব্যাগ সরবরাহ করত। এরপরে সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ জানতে পারে, ২১ এপ্রিল জিতেন্দ্র নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী সোনিয়া শর্মার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেছিল থানায়। আরও খোঁজ খবর করে জানা যায়, জিতেন্দ্র এক সময় ভারতীয় নেভিতে রাঁধুনি হিসেবে কাজ করত। ২০২২ সালে অবসর নেয় সে।
এরপর জিতেন্দ্রকে আটক করে জেরা করতে শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে সে স্বীকার করে, সোনিয়াকে খুন করেছে সে নিজেই। স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল সে। সম্প্রতি সে কথা জানতে পেরে গিয়েছিলেন সোনিয়া। তারপরেই স্ত্রীকে খুন করে জিতেন্দ্র। সে আরও জানায়, গোপনে প্রেমিকার সঙ্গে বিয়েও সেরে ফেলেছিল সে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে জিতেন্দ্রকে বাইকে করে একটি ভারী ট্রলি ব্যাগ নিয়ে যেতে, এবং কিছুক্ষণ পর সেই ব্যাগটিই খালি অবস্থায় নিয়ে ফিরতে দেখা গিয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সোনিয়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর দেহটি টুকরো করে কাটে জিতেন্দ্র। তারপর তাঁর মাথাটি এবং দুটি পা আলাদা জায়গায় ফেলে দিয়েছিল অভিযুক্ত। শুধুমাত্র ধড়টি বাড়ি থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের ওই ফার্ম হাউসে এনে পুড়িয়ে দিয়েছিল সে। ঘটনার দু'দিন পর খেরকি দৌলা এলাকা থেকে সোনিয়ার দুটি কাটা পা এবং বৃহস্পতিবার মানেসার থেকে তাঁর মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
দু’দিনে ৯ ছাত্রের আত্মহত্যা অন্ধ্রে, বাংলার জন্যও কেন তা উদ্বেগের