
শেষ আপডেট: 3 August 2023 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার থেকে হরিয়ানার গুরুগ্রাম অগ্নিগর্ভ (Gurugram Clash)। নুহ এলাকার এক ধর্মীয় মিছিলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা, ছড়িয়েছে হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গায়। আগুন জ্বলছে এখনও, থমথমে পরিবেশ। এই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে অসহায় সাধারণ মানুষ। বিপাকে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা (West Bengal Migrants)। গুরুগ্রাম ছাড়ার জন্য ঘনঘন হুমকি আসছে তাঁদের কাছে। অসহায় মুখগুলো চেয়ে আছে পুলিশ-প্রশাসনের দিকে!
কাঁদতে কাঁদতে শামিম বলেন, 'আগের দিন সন্ধ্যাবেলায় একদল লোক এসেছিল। আমাদের মতো যাঁরা মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছি, তাঁদের গুরুগ্রাম ছাড়তে বলে গেছে। কিন্তু আমাদের কাছে ফিরে যাওয়ার মতো টাকা নেই। এমনকী মুদির দোকানে বিস্তর ধার, সেটা মেটানোর টাকাও নেই। ঘরে এক বছরের বাচ্চা রয়েছে, তাকে দু'বেলা খেতে দিতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি আমাদের সাহায্য করুন, নিরাপত্তা দিন।'
শুধু পরিযায়ী শ্রমিক (West Bengal Migrants) নন, তাঁদের বাড়িওয়ালাদের ওপরও চাপ দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এলাকার মানুষ জানেন, এই হুমকি ফাঁপা নয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলায় এমনই এক বাড়িওয়ালার ওপর চড়াও হয়েছিল কয়েকজন। মারধর করা হয় তাঁকে। এখন তিনি হাসপাতালে ভর্তি।
বাড়ি বাড়ি যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের তদারক করার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, 'আমার আন্ডারে ৩০ জন কাজ করেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে গত দু'দিন মাত্র ৪ জন কাজে আসছেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে আবার সেদিন রাস্তায় ঘিরে ধরে মারধর করা হয়।' এরপরই তিনি বলেন, 'আমরা সকলেই ভয়ে সিঁটিয়ে আছি। বাড়ির বাইরে পা রাখতেই ভয় পাচ্ছি।'
শামিমের মা সোফিয়াও থাকেন ছেলের সঙ্গে গুরুগ্রামের সেক্টর ৭০ বস্তিতে। আতঙ্কে কথা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর। ওই মহিলা বলেন, 'গতকাল রাতে ৬০ জন মতো লোক এসেছিল, আমাদের বাড়িওয়ালার কাছে। বলে গেছে, যত মুসলমান পরিবার আছে সবাইকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলতে। আমরা মাত্র ১৫-১৬টা পরিবার এখনও এখানে আছি। আমাদের কাছে টাকা নেই কোথাও যাওয়ার।'
শামিম বলেন, 'মাত্র সপ্তাহ খানেক আগেই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামের বাড়ি থেকে গুরুগ্রামে ফিরেছি। কাজে যোগ দিয়েছি। তারপরই এই ঘটনা ঘটে গেল। আলিশান, আমার এক বছরের ছেলে খিদের জ্বালায় কাঁদছে। আমার স্ত্রীও দু'রাত সমানে কেঁদে চলেছে। কীভাবে আমাদের চলবে, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম নেই।'
কেউ কেউ আবার মনে করছেন, এটা ঝামেলায় তাঁদের মতো গরিবরাই বলি হচ্ছেন। দৈনন্দিন জীবনযাপনের নূন্যতম সামগ্রীটুকুর অভাব চোখে পড়ছে বস্তির ঘরে ঘরে।
গুরুগ্রামের ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত যাদব জানান, ' কিছু পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্পর্শকাতর জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। চলছে রুটমার্চও।' পুলিশ প্রশাসন, ভয় না পাওয়া আশ্বাস দিচ্ছে, তবুও আতঙ্ক কাটছে না গুরুগ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে।
আরও পড়ুন: সংঘর্ষে আটকে পড়েন হিন্দু বাবা-ছেলে, আগলে রাখলেন মুসলিমরা! হরিয়ানায় সম্প্রীতির ছবি