
শেষ আপডেট: 29 November 2024 17:19
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতে ১৯ বছরের এক কলেজ পড়ুয়াকে সম্প্রতি খুন এবং ধর্ষণের তদন্তে নেমে কপালে ভাঁজ পড়ল দুঁদে গোয়েন্দাদেরও। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর জেরায় পুলিশ জানতে পারে, প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল কলেজ পড়ুয়া তরুণীকে। তারপর রেললাইনের পাশে দেহ ফেলে দিয়ে এসে স্টেশনে বসে ফ্রুট স্যালাড খায় অভিযুক্ত। তারপর আবার ফিরে যায় রেললাইনের ধারে, যেখানে তরুণীকে খুন করে ফেলে রেখেছিল সে। সেখানে এসে মৃতদেহ ধর্ষণ করে।
ভয়াবহ এই ঘটনা সামনে আসার পরেই গোয়েন্দারা লাগাতার জেরা শুরু করে ধৃত রাহুল ওরফে ভোলুকে। তারপরেই সামনে আসে তার পরের পর কীর্তি। জানা যায় মহিলাদের ফাঁদে ফেলে, ধর্ষণের পর হত্যা করত সে। তারপরেই দেহ পুড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ মুছে ফেলত। ঠিক পর্দায় দেখা বিভিন্ন মিস্ট্রি সিরিজের কায়দাতেই চলত তার অপারেশন।
জানা যায়, গত এক মাসে দেশের নানা প্রান্তে অন্তত পাঁচটি ধর্ষণ-খুনের অপরাধের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে আছে। মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, কর্নাটক, এমনকী বাদ নেই বাংলাও। বাংলায় এক তরুণীকে খুন-ধর্ষণ করেই সে ক্ষান্ত হয়নি, তারপরে মেরেছে এক ব্যক্তিকেও। তার আগেই কাটিহার এক্সপ্রেসে তবলাবাদক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশ চিহ্নিত করেছিল রাহুলকে। তবে সে যে সিরিয়াল কিলার তখন তা জানা ছিল না।
গুজরাত পুলিশ জানতে পারে ট্রেনের কামরায় একলা মহিলাদের টার্গেট করত সে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী কামরায় একলা মেয়ে যাতায়াত করলে, তাকেই 'শিকার' করত রাহুল। ট্রেনেই ধর্ষণ করে মেরে ফেলত। তারপরে লোপাট করত প্রমাণ। রাহলের করা অপরাধগুলি একের পর এক পুলিশের খাতায় জমতে থাকলেও, তাকে চিহ্নিত করা কঠিন ছিল। তার মূল কারণ, রাহুল কখনওই কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় থাকত না অপরাধের পরে। সে ক্রমাগত ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে বেড়াত। প্ল্যাটফর্মে রাত কাটাত, ট্রেনের কামরায় দিন কাটাত। ফলে প্রমাণ মেলার পরেও তার টিকি ছুঁতে পারছিল না পুলিশ। জানা যায়, আগে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি ছিল সে। তার বিরুদ্ধে ১৩টি এফআইআরও রয়েছে। অভিযুক্তকে জেরা করে অতীতের আরও অপরাধের তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।