দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভোটের আগে সারা দেশে জিএসটি-র কাঠামো সরল করার উদ্দেশ্যে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে বেশ কয়েকটি পণ্য আরও সস্তা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সোমবার বলেন, সরকার স্থির করেছে করের তিনটি ধাপ থাকবে পণ্য পরিষেবা কর তথা জিএসটি-র। কোনও কোনও পণ্যের ওপরে আদৌ কর থাকবে না। কয়েকটি পণ্যের ওপরে পাঁচ শতাংশ ও বিলাসিতার নানা উপকরণের ওপরে আরও বেশি হারে কর নেওয়া হবে। যে সব পণ্যের ওপরে কর থাকবে না, তার দাম কমবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোটের দিকে নজর রেখে এভাবে গরিব ও মধ্যবিত্তকে আর্থিক সুরাহা দেওয়ার পথে হাঁটছে বিজেপি।
একই সঙ্গে জেটলি বলেন, আগামী দিনে দেশ জুড়ে বিক্রয়কর হবে ১২ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে। এখন দেশে ১২ ও ১৮ শতাংশ হারে সেলস ট্যাক্স নেওয়া হয়। আগামী দিনে দু’টোর মাঝামাঝি কোনও একটা হার স্থির করা হবে।
গতবছর সরকার বিভিন্ন পণ্যের ওপরে পাঁচ থেকে ২৮ শতাংশ হারে গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স নেবে বলে স্থির করে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সহ আরও অনেকে জিএসটি চালুর জন্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে। জেটলি তার জবাব দিয়ে বলেন, ২০১৭ সালের ১ জুলাই দেশে জিএসটি চালু হয়। তার পরে ১৮ মাসও কাটেনি। অনেকে ঠিকমতো না জেনেই তার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে কী হয়েছে?
জিএসটি চালুর আগে এত খারাপ পরোক্ষ কর ব্যবস্থা বিশ্বের আর কোনও দেশে ছিল না। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই এক গুচ্ছ করে কর বসাতে পারত। সব মিলিয়ে ১৭ রকমের ট্যাক্স ছিল। একজন উদ্যোগপতি ১৭ জন ইনস্পেক্টরের মুখোমুখি হতেন। তাঁকে ১৭ বার রিটার্ন ফাইল করতে হত। ১৭ বার অ্যাসেসমেন্ট হত। করের হার ছিল অস্বাভাবিক চড়া। ভ্যাট এবং শুল্ক ছিল যথাক্রমে ১৪.৫ এবং ১২.৫ শতাংশ। ট্যাক্সের ওপরে ট্যাক্স চাপত। বেশিরভাগ পণ্যের ওপরে কার্যত ৩১ শতাংশ হারে কর দিতে হত। ব্যবসায়ীদের সামনে দু’টি পথ খোলা ছিল। হয় চড়া হারে কর দেওয়া। নয়তো কর ফাঁকি দেওয়া।
জিএসটি চালুর প্রথম দিন থেকেই পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। ১৭ রকমের করের বদলে একই হারে কর নেওয়া হতে থাকে। সারা দেশ একটিই বাজারে পরিণত হয়। এক রাজ্য থেকে আর এক রাজ্যে গিয়ে ব্যবসায় যে বাধা ছিল তা কেটে যায়। শহরগুলিতে এন্ট্রি ট্যাক্স তুলে নেওয়া হয়। আগে রাজ্যগুলি ৩৫ শতাংশ থেকে ১১০ শতাংশ বিনোদন কর নিত। এখন তা অনেক কমে গিয়েছে। মোট ২৩৫ টি পণ্যে ৩৫ শতাংশ অথবা তার চেয়ে বেশি কর নেওয়া হত। এখন ১০ টি পণ্য বাদে বাকিগুলিতে কর ২৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।