দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেট্রল-ডিজেলের (Petrol-Diesel) দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার লখনউয়ে অনুষ্ঠিত জিএসটি কাউন্সিলের (GST Council) বৈঠকে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে গেল। রাজ্যগুলির আপত্তিতে জিএসটির আওতায় আনা হচ্ছে না পেট্রল-ডিজেলকে।
সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পেট্রল। ডিজেলের দামও কোনও কোনও রাজ্যে নব্বই ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রল-ডিজেল সহ পেট্রপণ্যের মূল্য হ্রাসের ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জিএসটি কাউন্সিল এ ব্যাপারে যে প্রস্তাব গ্রহণ করতে চেয়েছিল তা বাস্তবায়িত হল না।
পেট্রল ও ডিজেলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কেরল হাই কোর্টের নির্দেশের কারণে। সদস্যরা এই বিষয়ে কথা বলেছেন। অনেকেই এটিকে জিএসটি-র অন্তর্ভুক্ত করতে চাননি। জিএসটি কাউন্সিল মনে করছে, পেট্রল-ডিজেল এখনই জিএসটি-র আওতায় আসতে পারে না।
পেট্রল-ডিজেলকে জিএসটি-র আওতায় আনলে কী হতো?
পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, কেন্দ্র রাজ্যের বিভিন্ন ট্যাক্সের গেরো থেকে বের করে আনা যেত পেট্রল-ডিজেলকে। ফলে দাম কমত অনেকটা। শুক্রবার দিল্লিতে পেট্রলের লিটার প্রতি দাম ছিল ১০১ টাকা ১৪ পয়সা।। ডিজেলের মূল্য ৮৮ টাকা ১৭ পয়সা। জিএসটির আওতায় আনলে আজকের তারিখে পেট্রলের লিটার প্রতি দাম হতো ৭৫ টাকা এবং ডিজেল ৬৮ টাকা। কেন্দ্রীয় শুল্ক, ভ্যাট-সহ একাধিক ট্যাক্স থেকে মুক্তি পেত পেট্রল-ডিজেল।
২০২০ সালের বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায়, কেন্দ্রীয় সরকার রাজস্ব আদায়ের জন্য জ্বালানির উপর শুল্ক বাড়িয়েছে। মহামারীজনিত কারণে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় রাজ্যগুলিও একই পন্থা অনুসরণ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুসারে, পেট্রোলিয়াম সেক্টরে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে শুল্ক আদাওয় হয়েছে তিন লক্ষ ৭১ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। রাজ্যগুলি ভ্যাট বাবদ সংগ্রহ করেছে দু’লক্ষ দু’হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা।
জিএসটির আওতায় পেট্রপণ্যকে আনার সম্ভাবনা তৈরি হতেই সংশয়ও তৈরি হয়েছিল। যেহেতু রাজ্যগুলিরও সরাসরি কর আদায়ের সুযোগ রয়েছে তাই জিএসটি কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নিলে শেষ পর্যন্ত রাজ্যগুলি কতটা দরাজ মনে মেনে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেই সংশয়ই সত্যি হল। একাধিক রাজ্যের আপত্তিতে আপাতত আপাতত জিএসটির আওতায় আসছে না পেট্রল-ডিজেল।