দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে সামান্য স্বস্তি পেল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের অর্থনীতির দুর্দশা নিয়ে এখন বিরোধীদের তোপের মুখে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই অবস্থায় নভেম্বর মাসে জিএসটি বাবদ রাজকোষে এসেছে ১.০৩ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত বছর নভেম্বর মাসের তুলনায় ছ’শতাংশ বেশি। গত বছর নভেম্বর মাসে জিএসটি আদায় হয়েছিল ৯৭,৬৩৭ কোটি টাকা।
এ বছর অক্টোবরে জিএসটি বাবদ রাজকোষে এসেছে ৯৫,৩৮০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় কম।
অর্থমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জিএসটি আদায় বাড়ার অর্থ হল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের জন্য।
এক বিবৃতি জানানো হয়েছে, “টানা দু’মাস কমার পরে জিএসটি আদায় ইতিবাচক হয়েছে। এই মাসে অভ্যন্তরীণ জিএসটি আদায় ১২ শতাংশ বেড়েছে, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।”
গত অর্থবর্ষের তুলনায় জিএসটি আদায় এপ্রিল মাসে ১০.১০ শতাংশ হারে বেড়েছিল, কিন্তু মে মাস থেকে এই বৃদ্ধির হার ক্রমেই কমতে থাকে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে জিএসটি আদায় আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ২.৭০ শতাংশ ও ৫.৩০ শতাংশ কমে যায়। দেশে উৎপাদন বৃদ্ধির হার না কমলেও এই পরিস্থিতিকে মন্দা বলে সমালোচনা করা শুরু হয়ে যায়। বিরোধীরা আক্রমণ করলেও সরকার অবশ্য স্বীকার করছে না অর্থনৈতিক সঙ্কটের কথা।
বছরের অন্য সময় জিএসটি বৃদ্ধি আশানুরূপ হয়নি ঠিকই, কিন্তু অক্টোবর মাস ছিল উৎসবের মাস। সেই সময় জিএসটি আদায় গত বছরের তুলনায় কমে যাওয়ায় দেশে মন্দার আশঙ্কা করছিলেন অনেকে। পরপর দু’মাস জিএসটি আদায় কমে যাওয়ায় উদ্বেগ ছিল নভেম্বর মাসে কী হয় তা নিয়ে।
জিডিপি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত খরচ বেড়েছে। এই গতিপ্রকৃতি দেখে মনে করা হচ্ছে, পরবর্তীতে জিএসটি আদায় আরও বাড়বে।
অনেকে অবশ্য মনে করছেন, উৎসবের জন্যই নভেম্বরে জিএসটি আদায় বেড়েছে, দীপাবলি ছিল অক্টোবরের একেবারে শেষে। তাই অর্থনীতিবিদদের একাংশ চাইছেন জিএসটি আদায়ের হার বাড়ছে কিনা তা আগামী কয়েক মাস দেখতে।
বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় কর বাবদ আদায়ও আশানুরূপ হচ্ছে না। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কর আদায় বৃদ্ধির হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৪০ শতাংশ। গত ছ’বছরের মধ্যে এই প্রথম অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কমে ৪.৫০ শতাংশ হয়েছে।
নভেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় জিএসটি (সিজিএসটি) বাবদ আদায় হয়েছে ১৯,৫৯২ কোটি টাকা, রাজ্যের জিএসটি (এসজিএসটি) বাবদ আদায় হয়েছে ২৭,১৪৪ কোটি টাকা এবং ইন্টিগ্রেটেড জিএসটি বাবদ আদায় হয়েছে ৪৯,০২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০,৯৪৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে আমদানি বাবদ। সেস বাবদ আদায় হয়েছে ৭,৭২৭ কোটি টাকা।