পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে বাসরে ঢোকার আগেই বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত বর। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আধঘণ্টায় সেরে নেওয়া হয় বিয়ে, তারপর হাসপাতালে ভর্তি। একদিন পরই মিলল সুস্থতার সুখবর।

ভাতারের সেই দম্পতি।
শেষ আপডেট: 19 February 2026 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোককথার বেহুলা–লখিন্দরের গল্প যেন হঠাৎই বাস্তব হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। বাসর ঘরে যাওয়ার আগেই বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত হলেন বর। আর সেই মুহূর্তে বেহুলার মতোই একাগ্র প্রার্থনায় ভেঙে না পড়ে স্বামীকে বাঁচানোর লড়াই শুরু করলেন নববধূ।
ঘটনাটি রবিবারের। বীরভূমের লাভপুর থেকে বরযাত্রী নিয়ে ভাতারের মুরাতিপুরে বিয়ে করতে আসছিলেন ওই যুবক। লোচনদাস সেতুর কাছে গাড়ি থামিয়ে নামতেই আচমকা পায়ে তীব্র জ্বালা অনুভব করেন তিনি। আলো জ্বালাতেই স্পষ্ট হয়—সাপের দংশনের চিহ্ন। মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বরযাত্রী ও বিয়েবাড়িতে।
আহত বরকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, বিষধর সাপের কামড়—বিলম্ব করা বিপজ্জনক। সঙ্গে সঙ্গেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তখনও বিয়ের সিঁদুরদান হয়নি। লগ্ন বয়ে যাচ্ছে, বিয়েবাড়িতে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা।
ঠিক সেই সময়েই মানবিকতার অনন্য নজির গড়েন চিকিৎসকরা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁরা জানান, আধঘণ্টার মতো সময় দেওয়া যেতে পারে—এই সময়ের মধ্যেই বিয়ে সেরে আবার হাসপাতালে ফিরতে হবে। কোনও দ্বিধা না করে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান বর। মাথায় টোপর পরে তাঁকে নিয়ে তড়িঘড়ি পৌঁছে যাওয়া হয় মুরাতিপুরের বিয়ের মণ্ডপে।
নির্ধারিত লগ্নেই মালাবদল ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর আর এক মুহূর্ত দেরি না করে বরকে আবার নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। বাসরঘরে বসে নববধূ তখনও প্রার্থনায় ডুবে—যেন আধুনিক সময়ের বেহুলা।
একদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুখবর আসে। চিকিৎসকরা জানান, বিপদ কেটে গিয়েছে, বর এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আর কোনও বাধা নেই। এই খবরে আনন্দে ফেটে পড়ে দুই পরিবার ও গ্রামবাসী। গানের তালে তালে নাচ, উল্লাসে ভরে ওঠে এলাকা।
স্থানীয়দের কথায়, অত্যন্ত বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপের দংশনের পরও এমন পরিণতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ আর অদম্য মনের জোর ছাড়া সম্ভব নয়। কেউ বলছেন, এটা বিশ্বাসের জয়; কেউ বলছেন, ভালবাসার শক্তিতেই সব বাধা পেরিয়ে চার হাত এক হয়েছে।
বইয়ের পাতায় পড়া লখিন্দরকে বাঁচানোর কাহিনি যে বাস্তবেও দেখা যায়—ভাতারের মুরাতিপুর আর লাভপুরের মানুষ সেদিন তা নিজের চোখেই দেখল।