দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবারই ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল, ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সেলিব্রিটিদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। এরপর ফের ভারতে কৃষক আন্দোলন নিয়ে টুইট করলেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। চলতি বছরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত গ্রেটা ফেসবুকে তাঁর ফলোয়ারদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি আপনার নিকটবর্তী ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখান।
বুধবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইট করে বলেন, "কোনও প্রচারই ভারতের ঐক্যকে ভাঙতে পারবে না। ভারত উন্নতির নতুন শিখরে পৌঁছবেই। কোনও প্রচারই তাকে নিরস্ত করতে পারবে না। ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে প্রগতি, অন্য কিছু নয়। ভারত ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও অনেক সেলিব্রিটিও বুধবার টুইট করে বলেন, ভারত ঐক্যবদ্ধ আছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বিশিষ্ট প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি, বলিউডের অভিনেতা অক্ষয় কুমার ও অজয় দেবগণ।
এদিন বিদেশমন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে বলে, "আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, কৃষকদের আন্দোলনকে ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হিসাবেই দেখা উচিত। সরকার চেষ্টা করছে যাতে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা যায়।"
সরকার জানিয়েছে, সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের পরে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য আইন করা হয়েছিল। এর ফলে কৃষকরা খুশিমতো বাজারে ফসল বিক্রি করতে পারবেন। সরকারের দাবি, এই আইনগুলির ফলে চাষে খরচ কম লাগবে। বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে চাষ করা সম্ভব হবে।
বিদেশমন্ত্রক বলেছে, কৃষকদের খুব সামান্য অংশই নতুন আইন নিয়ে আপত্তি করছেন। সরকার বিক্ষোভকারীদের ভাবাবেগকে সম্মান করছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলছে। সরকার আপাতত আইনগুলি স্থগিত রাখার কথা বলেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের এই আশ্বাস দিয়েছেন।
বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, এত কিছুর পরেও কায়েমি স্বার্থবাহী কোনও কোনও গোষ্ঠী কৃষক আন্দোলনের ওপরে নিজেদের কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে চাইছে। তারা এই আন্দোলনকে বিপথগামী করতে চায়। এই 'কায়েমি স্বার্থবাহী গোষ্ঠী' বিদেশে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে সরকারের দাবি। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কায়েমি স্বার্থবাহী কেউ কেউ বিদেশে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। তাদের উস্কানিতেই বিদেশে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির অসম্মান করা হয়েছে। ভারত তথা সারা বিশ্বে সভ্য সমাজের কাছে এই ঘটনা অত্যন্ত আপত্তিকর।"