দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে তৎপরতা বাড়াচ্ছে জঙ্গিরা। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় দু’বার জঙ্গি হামলা হয়েছে। শুক্রবার শহরে নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ করে তারা গ্রেনেড ছোঁড়ে। বৃহস্পতিবারও শ্রীনগরে তারা গ্রেনেড ছুঁড়েছিল।
শুক্রবার শ্রীনগরের কেন্দ্রে, ঘণ্টাঘরের কাছে লাল চৌক এলাকায় গ্রেনেড হামলা হয়। সেখান দিয়ে সিআরপিএফের ১৩২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের একটি গাড়ি যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি অল্টো এইট হান্ড্রেড গাড়ি থেকে সিআরপিএফের গাড়ি লক্ষ করে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। বিস্ফোরণে গাড়ির কাচ ভাঙে। আশপাশের তিনটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
বিস্ফোরণের সময় একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ছবি তুলছিল। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার পরিচয় জানানো হয়নি।
শুক্রবার শ্রীনগরে বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানেও গ্রেনেড হামলা হয়। গাগরান অঞ্চলে একটি পুলিশ ক্যাম্প লক্ষ করে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এখানেও হতাহতের কোনও খবর নেই।
বৃহস্পতিবার শ্রীনগরে জিরো ব্রিজের কাছে পুলিশের চেক পোস্ট লক্ষ করে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। শুক্রবারের হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন স্বীকার করেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবার প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা কাশ্মীরে তৎপর হয়ে ওঠে। বোমা ছুঁড়ে, গুলি চালিয়ে মানুষকে ভয় দেখাতে চেষ্টা করে। এমনকী ২৬ জানুয়ারি নানা জায়গায় প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানেও হামলা চালায়।
সরকারের দাবি, গত এক বছরে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিদের তৎপরতা অনেকাংশে কমেছে। নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর হাতে জঙ্গিদের মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। কিন্তু জঙ্গিরা কাশ্মীরের নানা অংশে এখনও সক্রিয়। সেই সঙ্গে চলছে পাথর ছোঁড়া। অনেক জায়গায় মিলিটারি বা আধা সেনা জঙ্গি ঘাঁটি ঘিরে ফেললে স্থানীয় যুবকরা তাঁদের উদ্দেশে পাথর ছুঁড়তে থাকে। জঙ্গিদের পালাতে সাহায্য করে। এছাড়া পাকিস্তানও সীমান্ত পার করে জঙ্গিদের কাশ্মীরে ঢুকে পড়তে সাহায্য করে। তারা সীমান্তে গুলি চালিয়ে বিএসএফ ও মিলিটারিকে ব্যস্ত রাখে। সেই সুযোগে ঢুকে পড়ে জঙ্গিরা।
পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শপথ গ্রহণের পরেই বলেছিলেন, তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চান। ভারত যদি বন্ধুত্বের লক্ষে এক পা এগয়, তিনি দুই পা এগবেন। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই কাশ্মীরে বড় ধরনের হামলা চালায় জঙ্গিরা। বোঝা যায়, ইমরান মুখে যাই বলুন, তাঁর আমলে পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতি একই আছে।