দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষোড়শ লোকসভায় বিলটি সংসদের দুই সভাতে পাশ করানো যায়নি। তাই সপ্তদশ লোকসভার শুরুতেই মুসলিমদের তাৎক্ষণিক তিল তালাক প্রথা রদ করতে সংসদে বিল পেশ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার।
যে বিল নিয়ে প্রথম থেকে তীব্র আপত্তি জানাতে শুরু করে দিল কংগ্রেস, তৃণমূল সহ একাধিক আঞ্চলিক দল। শুক্রবার লোকসভায় বিলটি পেশ করার প্রশ্নেই ভোটাভুটি দাবি করেন বিরোধীরা। সংখ্যার তাকতে তা উতরে যায় সরকার। পরে আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ধর্ম-জাত-সম্প্রদায় পরের কথা। মুসলিম মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই বিল পেশ করা হয়েছে।
গোটা বিতর্ক নিয়ে মোদ্দা দশটি বিন্দু
এক, প্রস্তাবিত বিলটিতে শুধু তিন তালাক প্রথা রদ করার কথা বলা হয়নি। নতুন আইন প্রনয়ণের পরেও তিন তালাক দেওয়া ও তার জোর করে লাগু করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাওয়াই দেওয়া হয়েছে। এমনকী স্বামীকে তিন বছর পর্যন্ত হাজতবাস করতে হবে বলেও নিদান দেওয়া হয়েছে।
দুই, তালাক প্রথা নিষিদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের ওই নির্দেশ অনুযায়ী মোদী সরকারের গত মেয়াদে লোকসভায় বিলটি পেশ করেছিল সরকার। তা পাশও হয়ে গিয়েছিল লোকসভায়। কিন্তু রাজ্যসভায় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বিলটি পাশ করানো যায়নি। তাই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
তিন, বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তিন তালাক প্রথা রদের বিরুদ্ধে বার বার প্রকাশ্যে মত রেখেছে। সংসদেও তাদের অবস্থান তাই। এমনকি লোকসভা ভোটের সময় বসিরহাটের তৃণমূল প্রার্থী নুসরত জাহান তিন তালাক প্রথা বন্ধের পক্ষে সওয়াল করায় তাঁকে দলের মধ্যে কোপের মুখে পড়তে হয়েছিল। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, নুসরত বাচ্চা মেয়ে। ও বিষয়টা বোঝা না। এ ব্যাপারে দলের একটা অবস্থান রয়েছে।
চার, শুক্রবার লোকসভায় বিলটিতে আপত্তি করে কংগ্রেসও। সাবেক দলের তরফে শশী তারুর লোকসভায় বলেন, অন্য ধর্মের পুরুষরাও স্ত্রী পরিত্যাগ করেন। সুতরাং এই বিল পাশ করিয়ে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। তা ছাড়া মুসলিম মহিলারা কী ভাবে খোরপোশ পাবেন তা স্পষ্ট করে বলা নেই।
পাঁচ, এআইএমআইএম নেতা আসাউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, যে উদ্দেশে বিলটি পাশ করানোর চেষ্টা হচ্ছে, তার সঠিক প্রতিফলন বিলে নেই। তাই বিলটিতে তাঁদের সমর্থন নেই।
ছয়, শুধু বিরোধী নয়, এনডিএ-র অনেক শরিক দলও বিলের পক্ষে নন। যেমন সংযুক্ত জনতা দল নেতা নীতীশ কুমার বিলে পক্ষে নন। বিল নিয়ে আপত্তি রয়েছে দুই বন্ধু দল জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং বিজু জনতা দলের নেতা তথা ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের।
সাত, বিরোধীদের আরও বক্তব্য, ঘরোয়া সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বিলে। অথচ সমাজজীবনের এই সমস্যা মেটাতে যে ভাবে তিন বছর কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে তা ঠিক না।
আট, বিলটি সংসদের স্থায়ী কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠানো উচিত বলে দাবি করেন বিরোধীরা।
নয়, বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও লোকসভায় বিলটি পাশ করাতে সরকারের অসুবিধা হবে না। কিন্তু রাজ্যসভায় সরকারের এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ২৪৫ আসনের রাজ্যসভায় সরকারের সঙ্গে রয়েছেন ১০২ জন সদস্য।
দশ, বিলটি সংসদের চলতি অধিবেশনে দুই সভায় পাশ করাতে না পারলে ফের অধ্যাদেশ জারি করার পথে হাঁটতে হবে সরকারকে।