দ্য ওয়াল ব্যুরো : সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডায়রেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT), এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট। এতগুলি সংস্থা মিলে একযোগে তদন্ত করবে প্যান্ডোরা রিপোর্ট নিয়ে। সরকার জানিয়েছে, ওই রিপোর্ট আপাতত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহ করা হবে বিদেশি সংস্থার থেকেও।
এর আগে কালো টাকার বাড়বাড়ন্ত রোধ করার জন্য ২০১৫ সালে ব্ল্যাক মানি (আনডিসক্লোজড ফরেন ইনকাম অ্যান্ড অ্যাসেটস) অ্যান্ড ইমপোজিশন অব ট্যাক্স অ্যাক্ট তৈরি করা হয়। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত পানামা ও প্যারাডাইস পেপারের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০ হাজার ৩৫২ কোটি কালো টাকার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। আরও কালো টাকার সন্ধান করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দুই প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদনকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছিল। সিটের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কোন সেলিব্রিটিরা বিদেশে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সেলিব্রিটি ও রাষ্ট্রপ্রধানরা গোপনে কী পরিমাণ অর্থ জমিয়েছেন তা নিয়ে তদন্ত করেছিল সাংবাদিকদের এক আন্তর্জাতিক সংঘ। মোট ১৪ টি আর্থিক সংস্থার থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ নথি সংগ্রহ করেছেন সাংবাদিকরা। ওই নথিগুলিকে বলা হচ্ছে প্যান্ডোরা পেপার। তাতে দেখা যায় এক ডজনের বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান গোপনে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, সব দেশের রাজনীতিকরাই আছেন তাঁদের মধ্যে। সাংবাদিকদের সংগঠন থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে অতি ধনী এবং ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা সকলের চোখ এড়িয়ে হাজার হাজার কোটি ডলার সঞ্চয় করেছেন। তাঁদের সাহায্য করার জন্য নানা সংগঠন সক্রিয়।
অনেক দেশই নাগরিকদের বিদেশে অর্থ জমা রাখতে অনুমতি দেয়। সেই সুযোগে ধনীরা এমন দেশে অর্থ গচ্ছিত রাখেন যেখানে করের হার কম। সাংবাদিকদের সংঘের তরফে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক সংস্থা আছে, যারা ধনীদের বিদেশে অর্থ গচ্ছিত রাখতে সাহায্য করে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলিতেও এই ধরনের চক্র সক্রিয়। তারা বিভিন্ন নামী ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে কাজ করে।
প্যান্ডোরা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে একটি কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজ্যসভার সদস্য শচীন তেণ্ডুলকর। তাঁর স্ত্রী ও বাবারও শেয়ার আছে ওই কোম্পানিতে।
পানামার ল ফার্ম অ্যালকোগালের নথিতে শচীন, তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি ও শ্বশুর আনন্দ মেহতার নাম পাওয়া যায়। জানা যায়, তাঁরা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের কোম্পানি সাস ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর। ওই কোম্পানিতে শচীনের শেয়ারের মূল্য ৮ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭০২ ডলার। অর্থাৎ ৬৩ কোটি ৬৫ লক্ষ ডলারের বেশি। অঞ্জলির শেয়ারের মূল্য ১৩ লক্ষ ৭ হাজার ৫ হাজার ৭১৪ ডলার। অর্থাৎ ১০ কোটি টাকার বেশি। আনন্দ মেহতার শেয়ারের মূল্য ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮২ ডলার। অর্থাৎ ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকার বেশি।