
শেষ আপডেট: 2 November 2023 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিযোগ, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বাজি ফাটানোর ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সেই মর্মেই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল মামলা। সেই মামলাতে হস্তক্ষেপই করতে চাইলো না হাইকোর্ট। বিচারপতি সব্যসাচী ভাট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ জানিয়েছে, আদালত এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয়। তবে জনস্বাস্থ্য ও পশুদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে শব্দমাত্রার বিষয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার দিতে নির্দেশ দিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে। এছাড়া মামলাটি রেগুলার বেঞ্চে শুনানির নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
একটি সংগঠনের দায়ের করা মামলায় এদিন সংগঠনের আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী বলেন, আগে রাজ্যে শব্দমাত্রা ছিল ৯০ ডেসিবেল পর্যন্ত ।কিন্তু গত ১৭ অক্টোবর থেকে সেই সীমা বাড়িয়ে ১২৫ ডেসিবল করে দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ৫ মে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবল শব্দমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সম্প্রতি সেই শব্দমাত্রা বাড়িয়েছে কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই। বিভিন্ন দলের চাপের মুখে পড়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অভিযোগ করা হয়।
রাজ্যের জনঘনত্ব মাথায় রেখেও এই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হল, তা বোধগম্য নয় বলে দাবি করেন মামলাকারীদের আইনজীবী। তাঁর দাবি, নাগরিকদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আইনজীবী নয়ন বিয়ানির বক্তব্য, আদালতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করা ছাড়া এটা আর কিছু নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সবুজ বাজির ক্ষেত্রে ১২৫ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ আলাদাভাবে কিছু করেনি। ২০১৭ সালের বিজ্ঞপ্তিতে পরিস্কার বলা ছিল, যে বাজিগুলির বিস্তার ৫ মিটার পর্যন্ত, সেগুলির জন্য শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেল। কিন্তু সম্প্রতি যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে সেখানে যে বাজিগুলির বিস্তার ৪ মিটার পর্যন্ত, সেগুলোর জন্য ১২৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা করা হয়েছে।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে জানিয়েছে, আদালত এই মামলায় হস্তক্ষেপ করবে না। কারণ আদালত এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয়। তবে জনস্বাস্থ্যর কথা মাথায় রেখে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।