
শেষ আপডেট: 10 June 2023 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪টি ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন তথা ‘ককটেল ওষুধ’ (combination drugs) নিষিদ্ধ করছে কেন্দ্র। ওইসব ওষুধের কম্বিনেশন রোগীদের জন্য বিপজ্জনক বলেই দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটি পরীক্ষা করে জানিয়েছে, দুই ওষুধের ককটেল রোগীদের শরীরের জন্য ঠিক নয়। এর নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার নিমেসুলাইড + প্যারাসিটামল ট্যাবলেট-সহ মোট ১৪টি ওষুধের বিক্রি (combination drugs) এবং উৎপাদন বন্ধ করেছে। নির্দিষ্ট অনুপাতে দুই বা ততোধিক সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদানের (API) মিশ্রণকে ফিক্সড ডোজ কম্বিনেশন (FDC) বলা হয়। গত সপ্তাহে, কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ১৯৪০-এর ২৬-এ ধারার অধীনে এই ১৪টি এমন ওষুধের কম্বিনেশন বিক্রি বা বিতরণ নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ হিসাবে বলা হয়, এগুলির ব্যবহার 'ন্যায়সঙ্গত' নয়। ফিক্সড ডোজ় কম্বিনেশন পশ্চিমি দুনিয়ায় খুব জনপ্রিয় না হলেও এ দেশে বহুল প্রচলিত। তবে বেশ কয়েক বছর ধরেই এর বিপক্ষে সুর চড়াচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বার গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কায় এই ওষুধগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল।
রোজের ব্যবহারের ৪৮টি ওষুধের গুণমানই ঠিক নেই, হার্ট-ডায়াবেটিস-মাল্টিভিটামিন কী নেই তাতে
নিষিদ্ধ ওষুধগুলির তালিকায় রয়েছে-- নাইমেসুলাইড + প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, ক্লোফেনিরামাইন ম্যালেট + কোডাইন সিরাপ, ফোলকোডাইন + প্রোমেথাজিন, অ্যামোক্সিসিলিন + ব্রোমহেক্সিন এবং ব্রোমহেক্সিন + ডেক্সট্রোমেথরফান + অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড + মেনথল, প্যারাসিটামল + ব্রোমেনিরামিন + ক্লোফেনিরামিন + গ্লোফেনিরামিন + ব্রোমহেক্সিন + ব্রোমহেক্সিন। ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই কম্বিনেশন ওষুধ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
কম্বিনেশন ওষুধ রোগীদের জন্য ঠিক কী না সে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছি। গত বছর ড্রাগ বিশেষজ্ঞ কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়ে জানায়, দুই ওষুধের ককটেলের কোনও কার্যকারিতা নেই, উল্টে কম্বিনেশন ওষুধ খাইয়ে গেলে রোগীর নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এই রিপোর্ট দেখে সঙ্গে সঙ্গেই ৩৪৪টি ওষুধের কম্বিনেশন বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। এ বছর আরও ১৪টি ওষুদের কম্বিনেশন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।