
শেষ আপডেট: 27 February 2024 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে কোনও বাধা নেই, সোমবার স্পষ্ট করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরই তৃণমূলের তরফে থেকে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে গ্রেফতার হবে সন্দেশখালি কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত। এই নিয়ে রাজ্য সরকারকে এবার চিঠি দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি শাহজাহানের দ্রুত গ্রেফতারি চেয়েছেন।
শাহজাহানের গ্রেফতারি ইস্যু নিয়ে চাপানউতোর চলছে বিগত কয়েকদিন ধরেই। রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণেই গ্রেফতার করা যাচ্ছে না শাহজাহানকে। কিন্তু সোমবার এই তত্ত্ব কার্যত খারিজ করে দেয় আদালত। জানানো হয়, তাঁর গ্রেফতারিতে কোনওদিন স্থগিতাদেশ ছিল না। পুলিশ চাইলেই গ্রেফতার করতে পারে শাহজাহানকে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যকে চিঠি দিয়েছেন। জানিয়েছেন, কালপ্রিটকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেফতার করতে হবে।
সূত্রের খবর, রাজ্যের উদ্দেশে রাজ্যপাল বোস লিখেছেন, প্রশাসন যদি শাহজাহানকে এবার ধরতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে তাঁকে। এছাড়া সন্দেশখালি থেকে নতুন করে যে অভিযোগ আসছে তার তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন রাজ্যপাল। তদন্তের রিপোর্ট রাজভবনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আদালত ইডির মামলায় সিট গঠনের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তৃণমূল তাঁর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে হাইকোর্টের এই রায়কেই হাতিয়ার করেছিল। অভিষেক বলেছিলেন, "শাহজাহানকে কেউ যদি গার্ড করে থাকে তাহলে তা আদালত। হাইকোর্ট হাত-পা বেঁধে দিলে পুলিশ কী করবে?" বর্তমানে আদালত বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়ায় তৃণমূলের তরফেই জানান হয়েছে, ৭ দিনের মধ্যে গ্রেফতার হবে শাহজাহান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহজাহান গ্রেফতার হলে তার কৃতিত্ব কে নেবে তাই নিয়ে একটা ঠান্ডা লড়াই চলছে। রাজ্য বলতে চাইছে, তারা আদালতের নির্দেশের কারণেই শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে পারেনি এতদিন। এদিকে বিরোধীদের দাবি, শাহজাহান কোথায় আছে সেই সম্পর্কে অবগত রাজ্য। তাই তো জোর দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে গ্রেফতারের কথা তাঁরা বলতে পারছে। আবার রাজ্যপালের চিঠির পর মনে করা হচ্ছে, রাজ্য সরকারের ওপর তিনি চাপ রাখার চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ এই ধারণা তৈরি করতে চাইছেন যে চাপের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে চলেছে। এখন শুধু এটাই দেখার, কবে গ্রেফতার হন সন্দেশখালির 'মুকুটহীন বাদশা'।