
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 10 February 2025 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল হিসেবে বাংলার দায়িত্বভার গ্রহণের পর রাজ্যের কাছ থেকে বাংলায় হাতেখড়ি শিখেছিলেন সিভি আনন্দ বোস। সোমবার সকলকে চমকে দিয়ে সেই বোসকে দেখা গেল বাংলায় বাজেট বক্তৃতা দিতে! শুরুতে বেশ কয়েকপাতা বাংলায় পড়েন তিনি। পরে অবশ্য ইংরেজিতে বক্তব্য রাখেন বোস।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজ্যের লিখে দেওয়া বাজেট বক্তৃতা থেকে কেন্দ্রের বিরোধিতার সিংহভাগ অংশই এড়িয়ে যান বোস। সকালেই দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে (দিল্লির বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ, রাজ্যপাল কি বক্তৃতা থেকে বাদ দিচ্ছেন, খবর তেমনই) এই আভাস দেওয়া হয়েছিল।
তবে বোসের এই বাজেট বক্তৃতার মধ্যেই দু'বার শুভেন্দু অধিকারী এবং একবার অগ্নিমিত্রা পলকে রাজ্যপালের 'ভুল' শুধরে দিতে দেখা যায়।
রাজ্যের লিখে দেওয়া বাজেট পড়তে গিয়ে রাজ্যপাল 'জল স্বপ্ন' প্রকল্পের কথা বলেন। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধিতা করে শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, 'ওটা জল প্রকল্প নয়, কেন্দ্রের 'জল জীবন মিশন'! রাজ্য নাম বদলে দিয়েছে!" পরে শুভেন্দু বলেন, "রাজ্য নিজের মনগড়া অনেক কথা রাজ্যপালের বাজেট বক্তৃতায় লিখে দিয়েছিল। রাজ্যপাল সেগুলি বাদ দিয়েছেন।" শুভেন্দুর দাবি, 'স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যপাল সরকারের বক্তব্যের বিরোধিতা করলেন'।
প্রসঙ্গত, সংসদ বা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল বক্তৃতা দেন। রাষ্ট্রপতি বক্তৃতা দেন সংসদের যৌথ অধিবেশনে। বাংলায় আইনসভার একটাই কক্ষ। তাই বিধানসভাতেই বক্তৃতা দেন রাজ্যপাল।
কিন্তু সংসদীয় প্রথা হল, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের এই বক্তৃতার বয়ান সরকার লিখে দেয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সেটাই পাঠ করেন রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল। এখানে তাঁর ব্যক্তিগত মত খাটে না। বক্তৃতায় ‘আমার সরকার’ বলেই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল।
এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বক্তৃতার সংশোধন বা পরিমার্জন করতে পারেন কিনা, বা করার এক্তিয়ার তাঁর রয়েছে কিনা তা নিয়েও কৌতূহল ছিল সব মহলে। তবে বাস্তবে দেখা গেল, কেন্দ্রের বিরোধিতার সিংহভাগ অংশই বাদ দিয়ে বাজেট বক্তৃতা রাখলেন বোস।