
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সি ভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 23 July 2024 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রবিবার ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভামঞ্চ থেকে বাংলাদেশ নিয়ে করা মন্তব্যের একাংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে রাজভবন। এক্স হ্যান্ডেলে রাজভবন বলেছে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের একাংশ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারে থাকা বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
২১-এর সভায় মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘কেউ যদি এসে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে তাহলে আমরা অবশ্যই আশ্রয় দেব।’ এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রাজভবন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে আপত্তি তুলেছে। সেই সঙ্গে রাজ্যপাল সংবিধানের ১৬৭ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর ওই মন্তব্যের জন্য রিপোর্ট তলব করেছেন বলে রাজভবনের তরফে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্টে রাজভবন বলেছে, এতে উল্লেখিত বিষয়কে রাজ্যপালের মন্তব্য হিসাবে পরিবেশন করা যাবে না। অর্থাৎ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস সরাসরি নিজে এই বিতর্কে এখনও প্রকাশ্যে নিজেকে জড়াতে চাইছেন না।
রবিবারের সভায় মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার কথা মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছিলেন। তিনি নিজের মত বলার পাশাপাশি একথাও বলেছিলেন, এটা কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সঙ্গে অশান্ত পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিলেন।
ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত পড়শি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। দিল্লির পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র বারে বারেই বলেছেন, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত সরকার সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে। শরণার্থী বা তাদের আশ্রয় দেওয়ার মতো প্রসঙ্গ সেখানে আসেনি। তাছাড়া ভারত আন্তর্জাতিক শরণার্থী বিষয়ক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। যে কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিলেও ভারত দেয়নি। তবে ভারত সরকার কূটনৈতিক স্বার্থে মনে করলে কোনও ব্যক্তি বা জনসমষ্টিকে আশ্রয় দিতেই পারে। যেমন তামিলনাড়ুতে শ্রীলঙ্কা থেকে বিতাড়িত তামিল ভাষাভাষী মানুষ আছেন। আছেন তিব্বতীরা।