
শেষ আপডেট: 5 January 2024 21:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনার সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন ইডি অফিসাররা। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সহ-অধিকর্তা রাজকুমার রামকে। তিনি এবং আক্রান্ত বাকি দুই ইডি আধিকারিক অঙ্কুর এবং সোমনাথ দত্ত বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁদের দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।
সাম্প্রতিক কালে বাংলার যে কোনও ঘটনায় সরব হতে দেখা গিয়েছে রাজ্যপালকে। সন্দেশখালির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এদিনের ঘটনার পরও রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা দেন রাজ্যপাল। এরপর আহতদের দেখে বেরিয়ে তিনি বলেন, ''সংবাদমাধ্যমের উপর কোনও রকম আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না। সমাজের কোনও অন্যয় মেনে নেওয়া হবে না। রাজ্যপাল হিসাবে আমার চোখ খোলা রয়েছে।''
হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান রাজ্যপাল। একইসঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষা করতে যেভাবে তাঁরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করেছেন তার জন্য আহত ইডি কর্তাদের কুর্নিশ জানিয়েছেন রাজ্যপাল।
ইডি সূত্রের খবর, সন্দেশখালির এই ঘটনায় আক্রান্ত রামকে গুয়াহাটির অফিসার। ওই আধিকারিকের মাথায় চোট লেগেছে। তাঁর মাথায় পাঁচ-ছ’টি সেলাই করতে হয়েছে। একইভাবে সেলাই পড়েছে অন্য আধিকারিকদেরও। আপাতত আহত ইডি কর্তাদের শরীরে আরও কোনও গুরুতর আঘাত রয়েছে কিনা তা জানতে চিকিৎসকেরা পর্যবেক্ষণে রাখতে চান। এমনটাই জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে।
সন্দেশখালির ঘটনায় শুক্রবার রাজ্য তথা দেশ জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। বিচারপতি থেকে রাজ্যপাল, নিন্দায় সরব হয়েছেন সকলেই। এদিন রাজ্যপালের পাশাপাশি ইডির শীর্ষ আধিকারিকেরা হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্তদের খবর নিয়েছেন।
বর্তমানে রেশন, শিক্ষক ও পুর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কেন্দ্রের একাধিক এজেন্সি রাজ্যে তদন্ত চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শাসক দলের কয়েকজন নেতা-মন্ত্রী। কিন্তু কোথাও সন্দেশখালির মতো এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে! এক স্থানীয় তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাতে গিয়ে যেভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।