দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিনের মধ্যে বাজারে বিপুল পরিমাণে ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং ছাড়তে পারে এলআইসি (LIC)। তার আগে ওই বিমা সংস্থার কয়েকটি বিধি পাল্টানোর কথা ভাবা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার মতো এলআইসি-র উদ্বৃত্তও অংশীদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে এক বিশেষ আইনে এলআইসি পরিচালিত হয়। সেই আইন অনুযায়ী সংস্থার উদ্বৃত্তের পাঁচ শতাংশ পাঠানো হয় অংশীদারদের তহবিলে। বাকি ৯৫ শতাংশ যায় পলিসি হোল্ডারদের তহবিলে। ওই অর্থ থেকে তাঁদের বোনাস দেওয়া হয়।
অন্যান্য জীবনবিমা সংস্থাগুলি ইনসিওরেন্স অ্যাক্ট দ্বারা পরিচালিত হয়। তাতে উদ্বৃত্তের ৯০ শতাংশ যায় পলিসি হোল্ডারদের তহবিলে। ১০ শতাংশ পান অংশীদাররা। চলতি আর্থিক বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে আইপিও ছাড়তে চলেছে এলআইসি। সরকার চায়। অন্যান্য বিমা সংস্থার মতো এলআইসি-তে বিনিয়োগও আকর্ষণীয় হয়ে উঠুক। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, যাঁরা এলআইসি-তে বিনিয়োগ করবেন, তাঁরা নিশ্চয় চাইবেন, ওই সংস্থাও তাঁদের অন্যদের মতোই সুবিধা দিক। সেজন্য এলআইসি-র বিধিতে কয়েকটি পরিবর্তন করা হচ্ছে। সরকারের ধারণা, এর ফলে পলিসি হোল্ডারদের পাশাপাশি অংশীদারদেরও স্বার্থরক্ষা করা হবে। অনেকে এলআইসি-তে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন।
আগামী দিনে এলআইসি-তে কী পরিমাণে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ করা যাবে, তাও অবিলম্বে স্থির করবে সরকার। অন্যান্য বিমা সংস্থায় ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এলআইসি পৃথক আইনের দ্বারা পরিচালিত হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে এলআইসি-র অংশীদাররা যদি উদ্বৃত্তের আরও বেশি অংশ পান, তাতে পলিসি হোল্ডারদের ওপরে কোনও প্রভাব পড়বে না। সরকার বাজারে যখন এলআইসি-র ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং ছাড়বে, তার একটা অংশ কিনতে পারবেন পলিসি হোল্ডাররা। সরকারও চায়, পলিসি হোল্ডারদের একাংশ এলআইসি-র অংশীদার হোন।
এলআইসি-র পলিসি হোল্ডারদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হল, তাঁরা জানেন, সরকার তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে গ্যারান্টি দিচ্ছে। আগামী দিনে এলআইসি সংক্রান্ত আইন বদলালেও তার ২৭ নম্বর ধারাটি অবিকৃত রাখা হবে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনও পলিসির গ্যারান্টার হচ্ছে সরকার। সরকার প্রত্যেক পলিসি হোল্ডারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়া বা বোনাস দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।