দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দিল্লি সীমান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের সঙ্গে পাঁচবার আলোচনায় বসেছে। প্রতিবারই বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। কৃষক নেতারা আইন সংশোধনের প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়েছেন। আগামী বুধবার দুপুর দু'টোয় ষষ্ঠবারের জন্য আন্দোলনরত কৃষকদের আলোচনায় ডাকল মোদী সরকার। কৃষক ইউনিয়নগুলি অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তিনটি কৃষি আইন বাতিল না করলে তারা কোনওভাবেই আন্দোলন থেকে সরে আসবে না।
সোমবার দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর ও পীযূষ গয়াল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। একটি সূত্রে জানা যায়, কৃষক আন্দোলন নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। পরে তোমর বলেন, কৃষি আইনগুলি সারা দেশের মানুষ মেনে নিয়েছেন। কেউ কেউ কৃষক ইউনিয়নগুলিকে ভুল বোঝাচ্ছে।
এদিন কৃষক আন্দোলন নিয়ে কার্যত নিজের দলেরই সমালোচনা করেছেন বিজেপির সাংসদ সুশীল মোদী। তিনি বলেন, আজ যদি অরুণ জেটলি বেঁচে থাকতেন, তাহলে কৃষক বিক্ষোভ এতদিন চলতেই পারত না।
শনিবার কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে দল ছেড়েছেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ হরিন্দর সিং খালসা। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতি আদৌ সহানুভূতি নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। কৃষকদের স্ত্রী ও সন্তানরা কষ্ট পাচ্ছেন। তাতেও সরকার নির্বিকার। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হরিন্দর সিং খালসা আপের হয়ে পাঞ্জাবের ফতেগড় সাহিবে প্রার্থী হন। ২০১৯ সালে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে।
শুক্রবার কৃষি আইন নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন আইনে কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। শুক্রবারই মোদী প্রধানমন্ত্রী কিষাণ প্রকল্পে ১৮ হাজার কোটি টাকা দেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কৃষকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, এক বছরের জন্য নতুন আইনগুলি চালু হোক। তারপরে যদি কৃষকদের মনে হয় তাঁদের ক্ষতি হচ্ছে তাহলে আইনে সংশোধনী আনতে তৈরি সরকার।
বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকার তথা মোদীর কড়া সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। কেউ প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করলেই তাঁকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদী। এমনকি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত যদি মোদীর সমালোচনা করেন, তাঁকেও সন্ত্রাসবাদী বলা হবে।