
শেষ আপডেট: 22 February 2019 08:14
বন্যপ্রাণের প্রতি স্টিভ আরউইনের এই অভিনব ও তীব্র ভালবাসার নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা বব এবং লিন আরউইন। ছেলে স্টিভের ছ'বছরের জন্মদিনে ১১ ফুট লম্বা একটি অজগর উপহার দিয়েছিলেন তাঁরা। তখন থেকেই সেটিকে খুব ভালবাসত ছোট্ট স্টিভ। পরে আরউইন পরিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে চলে যায়। সেখানে তাঁরা একটি সরীসৃপ পার্ক উদ্বোধন করেন, যা বিয়ারওয়াহ রেপটাইল পার্ক নামে পরিচিত।
স্টিভের যখন ন'বছর বয়স, তখন থেকেই কুমিরদের সঙ্গে তাঁর অবাধ সখ্য। কুইন্সল্যান্ডের ইস্ট কোস্ট ক্রোকোডাইল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। পৃথিবীর সব চেয়ে বড় জীবন্ত সরীসৃপ অর্থাৎ নোনাজলের বিপন্ন কুমিরদের ধরা এবং তাদের ঠিক জায়গায় সরাতে সহায়তা করতেন স্টিভ। তিনি পরে তাঁদের পারিবারিক রেপটাইল পার্কটি পরিচালনা করতে শুরু করেছিলেন। পরে সেটিই অস্ট্রেলিয়া চিড়িয়াখানা হয়ে ওঠে।
স্টিভের প্রেমের শুরুও চিড়িয়াখানাতেই। তাঁর স্ত্রী তেরি যখন চিড়িয়াখানা ঘুরতে আসতেন তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় স্টিভের। এমনকী নিজেদের হানিমুনও স্টিভ এবং তেরি কাটিয়েছিলেন কুমির ধরে, কুমিরদের মধ্যেই।
২০০১ সালে স্টিভ আরউইন শতাব্দী পদক সম্মান পান। ২০০৪ সালে স্টিভ মনোনীত হন অস্ট্রেলিয়ান অফ দ্য ইয়ারের জন্য হন। হলিউড ওয়াক অফ ফেমের মরণোত্তর সম্মানও পেয়েছেন তিনি।
সারা জীবন বন্যপ্রাণ ভালবেসে, শেষমেশ অবশ্য জলের এক প্রাণীর আক্রমণেই মারা যান তিনি। ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, ৪২ বছর বয়সে স্টিংরে-র হুলের আঘাতে মৃত্যু হয় তাঁর। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে ডুব-সাঁতার দেওযার সময়েই ঘটে এই দুর্ঘটনা।