দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাশ্মীরের সরাই বালা অঞ্চলে বাজারে গিয়েছিলেন স্বর্ণকার সৎপাল সিং। জঙ্গিরা ৬২ বছরের সৎপালকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান।
এর আগে অক্টোবরের শেষে কুলগামে তিন বিজেপি কর্মীকে গুলি করে মারে জঙ্গিরা। গাড়িতে চড়ে ওয়াই কে পোরা অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই তিন বিজেপি কর্মী। সেই সময়ই তাঁদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারপরেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। জঙ্গিদের এলোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টিতে গুরুতর ভাবে জখম হন তিনজনই। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তিনজনকেই স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই এই তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তিন বিজেপি কর্মীর নাম ফিদা হুসেন ইয়াট্টু, উমের রশিদ বেগ এবং মহম্মদ রমজান। তাঁরা সকলেই কুলগাম জেলার ওয়াই কে পোরার বাসিন্দা ছিলেন। কে বা কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন।
নভেম্বরে জানা যায়, 'পিনপয়েন্ট স্ট্রাইক' চালিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, উরি এবং কেরান সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভূখণ্ডে জঙ্গিদের যে সমস্ত লঞ্চপ্যাড রয়েছে তার অধিকাংশেরই নাম, নিশান মিটিয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একদম সঠিক লক্ষ্যে এই হামলা চালায় ভারতীয় সেনা। উদ্দেশ্য ছিল নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বারবার পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশ করানোর বিরুদ্ধে যোগ্য জবাব দেওয়া। তবে শুধু জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড নয় সেই সঙ্গে পাকিস্তানি সেনার একাধিক বাঙ্কার, তেলের ডিপো, গোলা-বারুদের ঘাঁটিও ভারতীয় সেনা নষ্ট করে দিয়েছে বলে খবর।
গত কয়েক মাস ধরে জম্ম্য-কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে। করোনা আবহেও জঙ্গি হামলা একটুও কমেনি। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে পাক সেনা। তার পাশাপাশি পাকিস্তানের সরাসরি মদতে সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ চলছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত কয়েক মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক অস্ত্র বোঝাই ড্রোন। বোঝাই গিয়েছে উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের জন্যই এইসব অস্ত্র পাকিস্তান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এছাড়াও গত কয়েক মাসে একাধিক বার জঙ্গিরা নিশানা করেছে নিরাপত্তারক্ষীদের। পাশাপাশি বিজেপি নেতা থেকে আমজনতা জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছেন অনেকেই। শহিদ হয়েছেন অনেকে সেনা জওয়ান। নিহত হয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কর্মীরা।