২৬ বছরে এমনটা হয়নি, ৫৩ হাজার টপকানো সোনার ব্যবহার তলানিতে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালে যেমনটা হতে চলেছে তেমনটা গত ২৬ বছরে হয়নি। ১৯৯৪ সালের পরে ভারতে সোনালি ধাতুর এত কম ব্যবহার আর দেখা যায়নি। একে করোনার ধাক্কা, অন্য দিকে, অস্বাভাবিক দাম। দুয়ের ঠেলায় রীতিমতো বিপর্যয়ের মুখে গয়নার ব্যবসা। ওয়ার্ল্ড গোল্ড
শেষ আপডেট: 29 July 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালে যেমনটা হতে চলেছে তেমনটা গত ২৬ বছরে হয়নি। ১৯৯৪ সালের পরে ভারতে সোনালি ধাতুর এত কম ব্যবহার আর দেখা যায়নি। একে করোনার ধাক্কা, অন্য দিকে, অস্বাভাবিক দাম। দুয়ের ঠেলায় রীতিমতো বিপর্যয়ের মুখে গয়নার ব্যবসা। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লুজিসি) ভারতীয় শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সোমসুন্দরম পিআর জানিয়েছেন, সোনার দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা এত কমে যাওয়ার পিছনে বড় কারণ।
আরও পড়ুন
করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে সোনার দাম বাড়তে থাকে। ভারতে সোনার দাম কিছুদিন আগেই ১০ গ্রাম প্রতি ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এদিন তা ৫৩ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে গিয়েছে। কলকাতায় বৃহস্পতিবার প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারাট সোনার দর ছিল ৫৩ হাজার ১২০ টাকা। আর একই পরিমাণ ২২ ক্যারাট সোনার দাম ছিল ৫১ হাজার ৭২০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের বাজারে সোনার দাম বেড়ে চলেছে। হিসেব বলছে, চলতি বছরে ভারতে সোনার দাম ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। উল্লেখ্য, ভারতে সোনার দামের সঙ্গে যুক্ত থাকে ১২.৫ শতাংশ অন্তঃশুল্ক আর ৩ শতাংশ জিএসটি।
সোমসুন্দরম জানিয়েছেন, ১৯৯৪ সালের পরে ভারতের বাজারে সোনার এত কম ব্যবহার আর কখনও হয়নি। তিনি বলেন, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত গয়নার বাজারে মোট ৪১৫ টন সোনার চাহিদা দেখা গিয়েছে। বছরের বাকি সময়টায় আরও কতটুকু চাহিদা হবে তা বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দাজ করাও কঠিন।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভারতীয় বাজারে সোনার চাহিদা ৫৬ শতাংশ কমে হয়েছে ১৬৫.৬ টন। লকডাউনের ফলে জুন মাসে শেষ হওয়া কোয়ার্টারে সেই চাহিদা কমেছে ৭০ শতাংশ। চাহিদা ছিল ৬৩.৭ টন।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, করোনার আবহে বিশ্বজুড়েই শেয়ার, ফান্ড বা মুদ্রা বাজার চূড়ান্ত অনিশ্চিত। এর ফলে লগ্নিকারীরা আঁকড়ে ধরছেন সুরক্ষিত লগ্নির ক্ষেত্র সোনাকে। একই কারণে রুপোতেও বিনিয়োগ বাড়ছে। আর তাতেই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং তা সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বাজারে রুপোর কেজি প্রতি দাম ৬৫ হাজার টাকার আশপাশে। সোনা আর রুপোর এই দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে গয়না ব্যবসা। ব্যবসায়ী থেকে গয়নার কারিগর সকলেই সংকটে।