দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাথুরাম গডসে বিতর্কে মুখ খুললেন নোবেলজয়ী কৈলাস সত্যার্থী। কিছুদিন আগে এক রোড শোয় ভোপালের বিজেপি প্রার্থী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর বলেছিলেন, নাথুরাম গডসে দেশভক্ত। তাঁকে আমরা দেশপ্রেমিক হিসাবেই মনে রাখব। মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রজ্ঞার মন্তব্যে হইচই পড়ে যায় দেশ জুড়ে। শনিবার সকালে কৈলাস সত্যার্থী টুইট করে বলেছেন, প্রজ্ঞা ঠাকুররা দেশের আত্মাকে হত্যা করছেন। সেজন্য আমি দেশের মানুষকে সতর্ক করতে চাই।
৬৫ বছর বয়সী শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী লিখেছেন, গডসে হত্যা করেছিলেন গান্ধীজির দেহকে। কিন্তু প্রজ্ঞার মতো কেউ কেউ তাঁর আত্মাকে খুন করছেন। সেই সঙ্গে খুন হয়ে যাচ্ছে অহিংসা, শান্তি ও সহিষ্ণুতার আদর্শ। গান্ধীজি দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে। বিজেপি নেতৃত্বের উচিত সংকীর্ণ স্বার্থের কথা না ভেবে অবিলম্বে প্রজ্ঞার মতো সমর্থকদের দূর করে দেওয়া। আমরা আশা করব, বিজেপি রাজধর্ম পালন করবে।
https://twitter.com/k_satyarthi/status/1129603956999577600
কিছুদিন আগে অভিনেতা তথা রাজনীতিক কমল হাসান মন্তব্য করেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদী একজন হিন্দু। তিনি হলেন গডসে। তার প্রতিক্রিয়ায় সাধ্বী প্রজ্ঞা ওই মন্তব্য করেন। তারপরে দেশ জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। সাধ্বী নিজে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি টুইটারে লেখেন আমার মন্তব্যে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখিত। তার পরেও সমালোচনা থামেনি।
ভোপালে যিনি সাধ্বীর বিরুদ্ধে প্রার্থী, সেই দিগ্বিজয় সিং বলেন, প্রজ্ঞার মন্তব্যকে দেশদ্রোহিতা হিসাবে ধরা উচিত। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও এবং কংগ্রেস নেতা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও ওই মন্তব্যের সমালোচনা করেন। শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা টুইট করে বলেন, আমাদের দেশ তালিবানের মতো লোকজনের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সাধ্বী প্রজ্ঞা বাদে বিজেপির আরও দু’জন টুইটারে নাথুরাম গডসের প্রশংসা করেছিলেন। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ টুইট করে বলেন, সাধ্বী প্রজ্ঞার মন্তব্যের সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। যারা ওই মন্তব্য করেছিল, তারা ক্ষমা চেয়েছে। এই মন্তব্য দলের আদর্শের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের নামগুলি দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর অভিশাপেই মারা পড়েছেন পুলিশ অফিসার হেমন্ত কারকারে। একবার তিনি দাবি করেন, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসে অংশ নিয়েছিলেন। সেজন্য তিনি গর্বিত। নির্বাচন কমিশন তাঁকে ৭২ ঘণ্টা প্রচার করতে নিষেধ করেছিল।