দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেসে এসে গোয়ার উপকূলের কাছে হাজির হওয়া সহজদাহ্য-সহ ট্যাঙ্কারটি পাকিস্তান থেকে এসেছে বলেই দাবি করছে গোয়া কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই তারা তথ্যের অধিকার জানার আইনে বিষয়টি জানতে চেয়েছে। তারা চাইছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মানববিহীন ওই ট্যাঙ্কারটি নাম এমটি নিউ শি নলিনী (MT Nu Shi Nalini)। ২৬০০ মেট্রিকটন ন্যাপথা, ৫০টন হেভি অয়েল, ১৯ টন ডিজেল প্রভৃতি নিয়ে ডোনা পলায় ভেসে আসে ওই ট্যাঙ্কারটি। এলাকাটি গোয়ার রাজভবনের খুব কাছে। ওই ট্যাঙ্কারটি পাকিস্তানের বলে দাবি করে ইতিমধ্যেই তথ্যের অধিকার আইনে আবেদন করেছেন গোয়ার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গিরীশ ছোড়নকার। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন, কারণ ট্যাঙ্কারটি এসেছে পাকিস্তান থেকে।” তবে কে, কবে, কেন তথ্যের অধিকার আইনে এসব জানতে চেয়ে আবেদন করেছেন, সেকথা প্রকাশ করেননি ছোড়নকার।
জাহাজটি খালি করার জন্য আজই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে একটি হেলিকপ্টার চেয়ে অনুরোধ করেছে রাজ্য সরকার। হেলিকপ্টারের সাহায্যে ভারী পাম্প নামাতে চায় তারা।
ট্যাঙ্কারটি যখন গোয়ার উপকূল থেকে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল, তখন থেকে সেটির উপরে নজরদারি শুরু হয়। শনিবার জরুরি বৈঠকে বসেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। সেখানে ছিললেন মর্মাগাঁও পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, নৌসেনা উপকূলরক্ষী বাহিনী ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা।
ট্যাঙ্কারটিকে কী আছে তা জানতে নৌসেনার হেলিকপ্টার পাঠানো হয়, দক্ষ নিরাপত্তাকর্মীদের নামানো হয় ওই ট্যাঙ্কারটিতে কী আছে তা দেখতে। ওই হেলিকপ্টারের চালক ছিলেন কমোডর ধনুষ মেনন ও লেফটেন্যান্ট কমোডর জমি জন। কপ্টার থেকে ট্যাঙ্কারে নামেন ডিজি শিপিংয়ের ক্যাপ্টেন মোহিত বহেল, রিলায়েবল মেরিন সার্ভিসের ক্যাপ্টেন দিওয়ান, সাসটেক অ্যাসোসিয়েটসের চিফ ইঞ্জিনিয়ার লার্সেন দেসা ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার গৌতম দালাল।
মুখ্যমন্ত্রী তখনই জানিয়ে দেন, ২৪ ঘণ্টা ধরে ট্যাঙ্কারটিতে নজরদারি করা হবে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য বুধবারের আগে ট্যাঙ্কার খালি করার কাজ শুরু করা যাবে না বলে তখনই জানানো হয়। ট্যাঙ্কারটিকে থেকে কোনও কিছু চুঁইয়ে পড়ছে না বলে তখন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন। নিয়মমাফিক ওই জাহাজের অজ্ঞাত মালিকের নামে একটি এফআইআরও করে দেওয়া হয়েছিল তখন।