
শেষ আপডেট: 24 December 2023 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক ধরেই সাজো-সাজো রব ছিল কলকাতায়। নানা রঙে সেজে উঠছিল ব্রিগেড। বড়দিনের আগে রবিবার ছিল কলকাতায় এক বড় ইভেন্ট। অখিল ভারতীয় সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠান। কিন্তু রবিবার ব্রিগেডে লক্ষ মানুষ ছিলেন তো, সেই নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
ব্রিগেডে ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানে আয়োজনের দায়িত্বে ছিল সনাতন সংস্কৃতি পরিষদ, মতিলাল ভারততীর্থ সেবা মিশন আশ্রম এবং অখিল ভারতীয় সংস্কৃত পরিষদের একাধিক সংগঠন। তবে রাজ্যের শাসক দলের দাবি, এটা বিজেপিরই কর্মসূচি ছিল। এদিনের অনুষ্ঠানেও দেখা গেল রাজ্য বিজেপির এক ঝাঁক নেতা-নেত্রীকে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা।
‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন দ্বারকার শঙ্করাচার্য দয়ানন্দ সরস্বতী। মূল মঞ্চে ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। এছাড়াও এদিন ব্রিগেডে এসেছিলেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের দ্বৈতাপতি। গীতার পাঁচটি অধ্যায় এদিন পাঠ করা হয় ব্রিগেডে। জমজমাট এই অনুষ্ঠানে 'লক্ষ কণ্ঠে নজরুল গীতি'ও গাওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের জন্য এদিন গোটা ব্রিগেডকে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে মোট ২০টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের কথা অনুযায়ী, প্রতিটি ভাগে ৫ হাজার জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হল, ব্রিগেডে কি লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়েছিল? উদ্যোক্তাদের দাবি, এদিন ব্রিগেডে লোক সমাগম প্রচুর হয়েছিল। বিভিন্ন জেলা থেকে লোক এসেছিল। এই অনুষ্ঠান কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। মানুষ উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়েছিল রবিবার ব্রিগেডে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, 'রাজ্য সরকার সবরকমভাবে আজকের অনুষ্ঠান ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বাস না দিয়ে, টেট পরীক্ষা ফেলে। কিন্তু মানুষ তা উপেক্ষা করেই ব্রিগেডে এসেছিলেন। একসঙ্গে সকলে গীতাপাঠ করেছেন। গীতাপাঠ অনুষ্ঠান সফল।'
রাজ্য বিজেপির সভাপতিও বলে দেন, এর সঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের কাজ এসব বলা। ওরা দুর্নীতি থেকে মাথা তুলতে পারছে না। গীতাপাঠ নিয়ে আর ভাল কী বলবে।
তবে লক্ষ মানুষ হয়নি এদিন ব্রিগেডে এমনই দাবি করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, 'লক্ষাধিক কণ্ঠে নয়। মাত্র ৩ হাজার ৭৫০ জনের জমায়েত হয়েছিল।' তিনি আরও বলেন, 'আমরাও গীতাকে শ্রদ্ধা করি। রাজনীতিতে না পেরেই কখনও রাম, কখনও গীতার আশ্রয় নেয় বিজেপি। এটা লোক দেখানো কর্মসূচি। রুটি, কাপড়, বাড়ি না দিতে পেরে এইসব করছে ওরা।'
যদিও এই নিয়ে নাম না করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির সমাজ মাধ্যমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সপ্তর্ষি চৌধুরী ব্রিগেড মাঠে গীতা পাঠের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। কুণাল ঘোষের ফাঁকা মাঠে গীতাপাঠ মন্তব্যের জবাবে তাঁর দাবি, সকালে অনেকেই যখন মাঠে সকলে এসে পৌঁছাননি সেই সময়ের ছবি আপলোড করে ভুল খবর ছড়াচ্ছেন তিনি। "সোর্সগুলো ঝালিয়ে নিন। সুপ্রিমোর থুড়ি যুবরাজের কাছে ভুল রিপোর্টিং যাচ্ছে... সাবধানে থাকুন। ভিড় দেখে আতঙ্কিত!! তাই সাত সকালের ফাঁকা মাঠের ছবিগুলো আপলোড করলেন," ভিডিও পোস্ট করে দাবি তাঁর।
মান-অপমান বোধ আছে আপনাদের!!
— সপ্তর্ষি চৌধুরী • Saptarshi Chowdhury (@saptarshiOFC) December 24, 2023
সোর্স গুলো ঝালিয়ে নিন..সুপ্রিমোর থুড়ি যুবরাজের কাছে ভুল রিপোর্টিং যাচ্ছে..সাবধানে থাকুন।
ভিড় দেখে আতঙ্কিত!!
তাই সাত সকালের ফাঁকা মাঠের ছবিগুলো আপলোড করলেন!
এই ভিডিও দেখুন, চক্ষু কর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করুন। https://t.co/tMK4DZ5xAt pic.twitter.com/9p1kILQLd6
এদিনের অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তিনি আসবেন কথাও দিয়েছিলেন। যদিও দিনকয়েক আগে পিএমও থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি ব্রিগেডে গীতাপাঠ করতে আসবেন না। এই নিয়ে কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, 'অমিত শাহ এসে দেখে গিয়েছিলেন সভায় লোক হয়নি। ব্রিগেডে লোক ভরবে না জেনেই প্রধানমন্ত্রী আসেননি।'
আয়োজকরা দাবি করেছিলেন, একলাখেরও বেশি মানুষের জমায়েতে গীতাপাঠ করা হবে, যা গিনেস বুকে নাম তুলবে। এইজন্য নাম নথিভুক্ত করাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু আদৌ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়েছিল কিনা তাই নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল। রবিবার ব্রিগেডে কত মানুষের জমায়েত হয়েছিল, সেই নিয়ে পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। পরে জানা গেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করে দেওয়া হবে। সরকারি সূত্রে জানা না গেলেও অসমর্থিত সূত্রের খবর, ৫০ হাজারের বেশি মানুষের ভিড় হয়েছিল গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে।