‘ছোট পোশাকে স্তন, কোমর দেখা যায়, এই মেয়েদের খুন হওয়াই উচিত’, গুরুগ্রামের পুলিশকর্তার মন্তব্যে শুরু বিতর্ক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদে তরুণী পশু চিকিৎসক গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ দেশ। উন্নাও গণধর্ষিতাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা সেই ক্ষোভের আগুন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মাঝেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে একের পর এক ধর্ষণ ও নারকীয় নির্যাতনের খ
শেষ আপডেট: 13 December 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদে তরুণী পশু চিকিৎসক গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ দেশ। উন্নাও গণধর্ষিতাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনা সেই ক্ষোভের আগুন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মাঝেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে একের পর এক ধর্ষণ ও নারকীয় নির্যাতনের খবর সামনে এসেছে। নির্ভয়ার ধর্ষক ও খুনিদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে চারদিকে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুগ্রামের এক পুলিশকর্তার বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষোভের পারদ বেড়েছে চড়চড় করে।
“ছোট পোশাক পরা মেয়েদের সঙ্গে এমনটাই হওয়া উচিত। হয় ওদের বাড়ির লোকজন খুন করবে, না হয় বাইরে লোক,” কর্তব্যরত এক পুলিশকর্তার এমন কথায় বিতর্ক শুরু হয়েছে নতুন করে। ধর্ষণের মতো নারকীয় ঘটনা ঘটার পিছনে মেয়েদের পোশাকই দায়ী, নানাভাবে এটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন ওই পুলিশকর্তা। তাঁর এমন বচন ইতিমধ্যে ভাইরালও হয়েছে নেট দুনিয়ায়। নিন্দায় ভরে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল।
গুরুগ্রাম পুলিশের ওই অফিসারের কথায়, “আমার মনে হয় ধর্ষণ বা গণধর্ষণ কখনওই জোরজবরদস্তি হয় না। উভয়েরই সম্মতি থাকে। একহাতে তো আর তালি বাজে না। পুরুষরা রাক্ষস নয়। বরং মেয়েরাই যথার্থ শিক্ষা পায় না পরিবারের থেকে। কীভাবে পোশাক পরতে হয় তাদের শেখানো হয় না।” এখানেই থেমে থাকেননি ওই পুলিশকর্তা। তাঁর আরও দাবি, মহিলাদের পোশাক দিন দিন ক্রমশই উত্তেজক হয়ে উঠছে, শালীনতার মাত্রা ছাড়াচ্ছে। তাই এই ধরনের ঘটনাও দিন দিন বাড়ছে।

মহিলাদের এমন ছোট পোশাক দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায়, বলেছেন ওই পুলিশকর্তা। তাঁর কথায়, “হুডা সিটি সেন্টারে গিয়ে দেখবেন মেয়েরা কী ধরনের পোশাক পরে আসে। একটি মেয়ে এমন পোশাক পরেছে যা আমি জীবনে দেখেনি। পোশাকের পা থেকে কোমর অবধি পুরো কাটা। মেয়েটার বুকে দু’টো ট্যাটু, স্তন দেখা যাচ্ছে। পরিবারের উচিত এই মেয়েদের মেরা ফেলা।”
উন্নাও তরুণীর নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল। নির্যাতিতার পরিবার দাবি করেছিল, প্রথমে নাকি অভিযোগ নিতেই চাননি পুলিশকর্তারা। দেশের অন্যান্য জায়গায় পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অজস্র। তার মধ্যেই গুরুগ্রামের ওই পুলিশকর্তার এমন মন্তব্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠে গেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, খোদ পুলিশই যদি এমন কথা বলে, তাহলে দিনে-রাতে মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায়!