দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইবোলা সারাতে তেমন কাজ করেনি ঠিকই। তবে করোনা সারাতে বেশ কাজে আসবে রেমডেসিভির, এমন আশাই করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু ধাক্কাটা এল প্রথম ট্রায়ালের পরেই। ফিনান্সিয়াল টাইমসের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মানুষের শরীরে রেমডেসিভির ওষুধের প্রথম ট্রায়াল ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি রিপোর্টের সূত্র ধরে জানানো হয়, করোনা আক্রান্তদের এই ওষুধ খাইয়েও নাকি বিশেষ কোনও ফল দেখা যায়নি।
রেমডেসিভির ওষুধের নির্মাতা সংস্থা গিলেড সায়েন্স জানিয়েছিল ৫৫০০ রোগীর উপরে এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে আনেনি সংস্থা। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি রিপোর্টে এই ওষুধের ব্যর্থতার কথা সামনে চলে আসে। সূত্রের খবর, মানুষের শরীরে এই ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছিলেন চিনের বিজ্ঞানীরা। সেখান থেকেই খবর আসে রেমডেসিভির করোনা আক্রান্তদের শরীরে তেমনভাবে কার্যকরী হয়নি। এই ওষুধ খাওয়ানোর পরেও রোগীদের সংক্রমণ কমার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি।
গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২৩৭ জন রোগীর উপরে ট্রায়াল করে দেখা হয়েছে এই ওষুধ। ১৫৮ জনকে রেমডেসিভির খাইয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, বাকি ৭৯ জনকে ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। দেখা গেছে, রেমডেসিভির যাঁরা খেয়েছিলেন তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। আবার কয়েকজনের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নাকি দেখা গেছে।
২০১০ সালে এই অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ তৈরি করে গিলেড সায়েন্সস। তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছিল, রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ (Nucleotide Analog)। সার্স ও মার্স ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কিছুটা হলেও কাজে এসেছিল এই ড্রাগ। চারজন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপর এই ড্রাগের প্রভাব কার্যকরী হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল সংস্থার তরফে। যদিও তখনই এই ওষুধ ব্যবহারে সবুজ সঙ্কেত দিতে পারেনি গিলেড সায়েন্সেস। পরে, নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে (NEJM) একটি গবেষণার রিপোর্টে বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, রেমডেসিভির ভাইরাসের বৃদ্ধি ও বিস্তার আটকাতে পারে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা সঙ্কটাপন্ন রোগীদের উপরেও কাজ করতে পারে এই ড্রাগ।
ভারতে এই ওষুধ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে অন্যতম বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা সিপলা। কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি (CSIR-IICT)-এর তত্ত্বাবধানে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টিভাইরাল তিন ড্রাগ ফ্যাভিপিরাভির, রেমডেসিভির ও বলোক্সাভির নিয়ে গবেষণা চলছে। যার মধ্যে রেমডেসিভির ওষুধের কার্যকারিতার কথা সামনে আনে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চও (আইসিএমআর)। এপিডেমোলজি অ্যান্ড কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রধান রমন আর গঙ্গাখেদকার বলেন, কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপরে এই ওষুধের কার্যকরি প্রভাব দেখা গেছে। সংক্রামিত তিনজন রোগীর মধ্যে দু’জনের উপরেই ৬৮% কাজ করেছে রেমডেসিভির। ওই তিন রোগীই তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাঁদের রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেটরে। রেমডেসিভির দেওয়ার পরে দেখা যায় তাঁদের মধ্যে দু’জনের শ্বাসের সমস্যা অনেকটাই কমেছে। আর ভেন্টিলেটরে রাখারও প্রয়োজন হয়নি। তবে গিলেড সায়েন্সের রিপোর্ট সামনে আসার পরেই এই ওষুধ ব্যবহারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল।