Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকের

রেমডেসিভির ওষুধে মৃত্যুহার কমছে ৬২%, ১৪ দিনে সুস্থ হচ্ছে করোনা রোগী, দাবি গিলিয়েডের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সারাতে আশা জাগাচ্ছে রেমডেসিভির। মাঝারি সংক্রমণ শুধু নয়, সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীরাও সুস্থ হচ্ছেন। চূড়ান্ত পর্যায়ের রিকভারি ট্রায়ালের রিপোর্টে দাবি করল রেমডেসিভিরের নির্মাতা সংস্থা মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট গিলিয়েড সায়েন্সে

রেমডেসিভির ওষুধে মৃত্যুহার কমছে ৬২%, ১৪ দিনে সুস্থ হচ্ছে করোনা রোগী, দাবি গিলিয়েডের

শেষ আপডেট: 11 July 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সারাতে আশা জাগাচ্ছে রেমডেসিভির। মাঝারি সংক্রমণ শুধু নয়, সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীরাও সুস্থ হচ্ছেন। চূড়ান্ত পর্যায়ের রিকভারি ট্রায়ালের রিপোর্টে দাবি করল রেমডেসিভিরের নির্মাতা সংস্থা মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট গিলিয়েড সায়েন্সেস। করোনা চিকিৎসায় বিশ্বে যে ৭০ রকম ওষুধের সলিডারিটি ট্রায়াল চলছে তার মধ্যে প্রথমের সারিতেই রয়েছে গিলিয়েড সায়েন্সেসের বানানো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির। ইবোলার প্রতিষেধক হিসেবে তৈরি হলেও এই ওষুধ ইবোলা সারাতে কার্যকরী ভূমিকা দেখায়নি। অথচ সার্স ও মার্স ভাইরাস প্রতিরোধে কিছুটা হলেও কাজ করেছিল রেমডেসিভির। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য এই ওষুধকে বেছে নিয়েছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ)অনুমোদনে করোনা রোগীদের উপরে রেমডেসিভিরের কন্ট্রোলড ট্রায়াল শুরু করে গিলিয়েড সায়েন্সেস। রেমডেসিভিরের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টেই রেমডেসিভিরের সুফল দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করেছিল গিলিয়েড। বর্তমানে তাদের তৃতীয় পর্যায়ের রিকভারি ট্রায়াল চলছিল। সেই রিপোর্টে ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকা ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ৮১৮ জন করোনা রোগীকে দুটি দলে ভাগ করে কন্ট্রোল ট্রায়াল চলছিল। একটি দলকে পাঁচ ও দশ দিনের কোর্সে রেমডেসিভির ওষুধের ইন্টারমাস্কুলার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় রোগীদের। বাকিদের অন্য থেরাপিতে রাখা হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, রেমডেসিভিরের ইঞ্জেকশন দেওয়া রোগীদের অধিকাংশকেই ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। রেমডেসিভিরের রিকভারি ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকা কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক ডক্টর সুশান ওলিয়েন্ডার বলেছেন, ১৪ দিনের থেরাপি করা হয়েছিল। দেখা গেছে, ৭৪.৪% রোগীই সেরে উঠেছেন। মৃত্যুহার ৭.৬%। রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ (Nucleotide Analog)। আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে এই অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল ড্রাগ। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রেমডেসিভির নিয়ে গবেষণা চলছে। এই প্রজেক্টের অন্যতম গবেষক ভারতীয় বংশোদ্ভূত অরুণা সুব্রহ্মণ্যম। তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ইমিউনোকম্প্রোমাইজড হোস্ট ইনফেকসিয়াস ডিজিজ বিভাগের প্রধান ও চিফ ক্লিনিকাল অফিসার। জানিয়েছেন, দু’টি পর্যায়ে রোগীদের উপর ট্রায়াল শুরু হয়েছে স্ট্যানফোর্ডে। কিছু রোগীর শরীরে পাঁচদিন ধরে একটা নির্দিষ্ট ডোজে রেমডেসিভির প্রয়োগ করা হয়েছে, অন্যদের দশ দিন ধরে ওই ওষুধের ডোজ দেওয়া হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই একই রেজাল্ট পাওয়া গেছে। পাঁচদিনের কোর্সে যাঁদের রেমডেসিভিরের ডোজ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের সংক্রমণ যতটা কমেছে, দশদিনের কোর্স করা হয়েছিল যাঁদের উপরে তাঁরাও একইভাবে উপকৃত। রেমডেসিভির ওষুধের ট্রায়াল চলছে শিকাগো হাসপাতালেও। শিকাগো ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ক্যাথলিন মুলানে বলেছেন, “সুখবর হল হাসপাতালের বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগর উপরে প্রয়োগ করা হয়েছিল এই ড্রাগ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সংক্রমণ সারিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকিদের শারীরিক অবস্থাও অনেকটাই স্থিতিশীল।” গিলিয়েড সায়েন্সেসের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ভারতেও রেমডেসিভির ওষুধের মূল উপকরণ বানাচ্ছে সরকারি সংস্থা কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর অধীনস্থ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজিতে (সিএসআইআর-আইআইসিটি) । এই ওষুধ তৈরির লাইসেন্স পেয়েছে দেশের তিন সংস্থা সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেস।  গিলিয়েড সায়েন্সেসের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে প্রথম দেশের বাজারে রেমডেসিভিরের ব্র্যান্ড নিয়ে আসছে সিপলা ও হেটেরো ল্যাব।  সিপলা ফার্মাসিউটিক্যালস ঘোষণা করেছে তাদের তৈরি সিপ্রেমি ওষুধের প্রতি ১০০ মিলিগ্রামের দাম হবে ৪৮০০ টাকা। হেটোরো ল্যাব প্রথমে জানিয়েছিল তাদের তৈরি কোভিফোর ওষুধের দাম হতে পারে পাঁচ থেকে ছ’হাজার টাকার মধ্যে। পরে তারা জানায়, কোভিফোরের প্রতি ভায়ালের (১০০ মিলিগ্রাম)দাম হবে ৫৪০০ টাকা। দেশের সংস্থা ছাড়াও আন্তর্জাতিক ড্রাগ নির্মাতা সংস্থা মাইল্যান ভারতের বাজারে রেমডেসিভিরের জেনেরিক ভার্সন ডেসরেম আনতে চলেছে। তাদের ধার্য করা দাম প্রতি ১০০ মিলিগ্রাম ভায়ালে প্রায় ৪৮০০ টাকা।

```