দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএফএ-তে তুমুল নাটক চলছে। তার অগ্রভাগে রয়েছেন সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। যিনি এর আগে ইস্তফার নাটক করে ফের পদে ফিরে এসেছেন। তিনি লিগ, শিল্ডকে জৌলুসহীন করে দিয়েছেন দিনের পর দিন, তারপরেও পদে থাকার নাটক করে যান। ময়দানে কান পাতলে শোনা যায়, তাঁর মতো অকার্যকারী সচিব এর আগে আইএফএ-র মসনদে বসেননি। তিনি দিনে ফুটবল নিয়ে থাকেন, আর রাতে সিনেমা। অর্থ ঢালেন অবশ্য সিনেমায়, ফুটবলে নয়।
জয়দীপ নিয়ে বড় অভিযোগ এনেছেন জর্জ টেলিগ্রাফের ডিরেক্টর তথা নামী ফুটবল প্রশাসক অনির্বাণ দত্ত। তিনি আদতে কিংবদন্তি ফুটবল প্রশাসক প্রদ্যোৎ দত্তের পুত্র। অনির্বাণের দাদা আবার ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত। ময়দানে সবাই জানে, সুব্রতরই হাতে তৈরি জয়দীপ, কিন্তু তিনি পদ পেয়ে গিয়ে কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না। সেই কারণেই বিদ্রোহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে আইএফএ-তে।
আইএফএ-র কোষাধ্যক্ষ পদে যিনি ছিলেন, সেই কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনাবসান হয়েছে সম্প্রতি। তারপরে ওই পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে একমাসের ওপর। এই নিয়ে সচিবের কোনও হেলদোল নেই। তিনি চাইছেন গোপনে তাঁর কোনও লোককে ওই পদে বসানোর। এই নিয়ে সংবিধান ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন অনির্বাণ। তিনি জর্জ টেলিগ্রাফ ফুটবল ক্লাবের শীর্ষ কর্তা।
তিনি বুধবার এক চিঠিতে লিখেছেন, কোষাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি হলে ৩০ দিনের মধ্যে শূন্যস্থান পূরণ করার নিয়ম রয়েছে আইএফএ-র সংবিধানে। ২৫ জানুয়ারি সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও এখনও নির্বাচনের ঘোষণা হয়নি। ফলে কোষাধ্যক্ষের পদ খালি পড়ে রয়েছে। জয়দীপ এই নিয়ে বলেছেন, করোনা অতিমারির কারণেই এখন নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না। সংবিধান ভঙ্গের অভিযোগ ঠিক নয়।
গত ২৬ ডিসেম্বর প্রয়াত হন আইএফএ-র কোষাধ্যক্ষ কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তাঁর স্মরণসভাও হয়েছে আইএফএ-তে। সেই পদে এখনও কাউকে আনা হয়নি। চিঠিতে অনির্বাণ লিখেছেন, সংবিধানের ৮ (ডি) ধারা ভঙ্গ করেছে আইএফএ। তাঁর অভিযোগ, “সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ভাবে ৩০ দিনের মধ্যে নিয়োগের কথা বলা হলেও তা মানা হয়নি। কোনও নির্বাচনও ডাকা হয়নি। আমার ধারণা, নির্বাচন পিছিয়ে পছন্দের লোক বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের জন্য আচমকাই তিন জনকে দায়িত্ব দেওয়া হল। কী ভাবে সেটা জানা নেই। সংবিধান একেবারেই মেনে চলা হচ্ছে না।”