
শেষ আপডেট: 15 May 2019 18:30
বৈশালীর স্বামী সুধাকর।[/caption]
রোদের তেজে মাটি যখন জ্বলে যায়, ফসল শুকিয়ে আসে তখন চাষিদের মনের অবস্থা কী হয় সেটা রাজনৈতিক নেতারা বুঝবেন না, বৈশালীর কথায় ঝাঁঝ স্পষ্ট। চোখের পাতা ভিজলেও, মহাজনদের পকেট ভরে না। ঋণের বোঝায় তছনছ হয়ে যায় কত সংসার, সে খবর কি রাখেন নেতামন্ত্রীরা? বছর আঠাশের যুবতীর চোখে জল। বললেন, “মোদী বলেছিলেন সব কিছুতে বদল আসবে। শুধু রাস্তা তৈরি ছাড়া আর কী হয়েছে এখানে? উদ্যোগ নেই কোনও রাজনৈতিক দলেরই। বছরের পর বছর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে।”
যবতলে কৃষকদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। রাজ্যের ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে ১৪৮৯ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন এই এলাকায়। স্বরাজ ইন্ডিয়ার নেতা যোগেন্দ্র যাদবের কথায়, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে পঞ্জাবে প্রচারে নেমেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই পর্যন্তই। বিদর্ভে নির্বাচনী প্রচার চললেও, চাষিদের অবস্থা বদলায়নি।
১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয় সুধাকরের সঙ্গে। ছোট মেয়ের জন্মের সময় শারীরিক জটিলতা হয়েছিল বৈশালীর। মেয়ের যখন এক মাস বয়স, তখনই স্বামীকে হারান তিনি। ঋণের জালে জড়িয়ে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন সুধাকর। বৈশালীর কথায়, “২০১১ সালে বিদর্ভে প্রায় ১৪ হাজার চাষি আত্মহত্যা করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুধাকরও। ২০১৫ সালে সেই সংখ্যাটা ছিল ১২,৬০০।”জানালেন, বিদর্ভের আনাচ কানাচে ঘুরলে কানে আসবে নানা কথা। সরকারি পর্যায়ে অনেকবারই প্রমাণের চেষ্টা হয়েছে ঋণের দায়ে নয়, বরং পারিবারিক বিবাদের কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন চাষিরা। তাই সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণও মেলেনি। কিন্তু, বাস্তব ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।
দলের কর্মীদের জন্য নিজের হাতে চাপাটি বানান বৈশালী। ওই আসনে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী চার বারের সাংসদ শিবসেনার প্রার্থী ভাবনা গাওয়ালি এবং কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী প্রদেশ সভাপতি মানিকরাও ঠাকরে। হেভিওয়েটদের সামনে তাঁর লড়াই ধোপে ঠিকবে কি না জানা নেই, তবে বৈশালীর আশা, গরিব মানুষদের সমস্যার কথা, তাদের যন্ত্রণার কথা তিনি তুলবে ধরবেন নিজের মতো করেই। হোক না অসম লড়াই, মনের জোরটাই আসল। তাকে সম্বল করেই এগিয়ে যেতে চান আঠাশের বিধবা।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-national-haryana-women-die-of-back-to-back-pregnancies-malnutrition-and-anemia/