
শেষ আপডেট: 24 February 2024 17:50
কখনও মুখ খোলা, কখনও আবার গামছা দিয়ে বাঁধা। সন্দেশখালির আন্দোলনরত মহিলাদের কাছে এখন তিনি আত্মজন। ফোনে ‘ম্যাডামের’ নির্দেশ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। বেড়মজুর এক নম্বর ও দু নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল নেতার আলাঘরে আগুন ধরানোই হোক, আর রাস্তার উপরে কাটা গাছ ফেলে টায়ার জ্বালানো, সবেতেই নজরে আসছে এই ধন্যি মেয়ে। শনিবার নিজেই জানালেন সে কথা।
কিন্তু কে সেই ম্যাডাম? গামছার আড়াল থেকেই জবাব এল, ‘ও বলা যাবে না!’
বেড়মজুরের কাঠপুল এলাকার বাসিন্দা গীতা বর পরিচারিকার কাজ করেন। স্বামী বিশেষভাবে সক্ষম। ঘরে রয়েছে কিশোর ছেলেও। নারী নির্যাতন ও জমি দখলের প্রতিবাদে সন্দেশখালির মেয়েরা এককাট্টা হওয়ার পর থেকেই তাঁকে দেখা যাচ্ছে আন্দোলনের প্রথম সারিতে।
জানা গেল, বেড়মজুর দু'নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝুপকালিতে ৪৮ ঘণ্টা আগে গীতা বরের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। বেড়মজুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছারিপাড়া, বটতলা, দাসপাড়া, কাটপোল সহ একাধিক জায়গায় গীতাকে দেখা গেছে কখনও মুখ বাঁধা অবস্থায়। আবার কখনও খোলা মুখেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বারবারই বলছেন তাঁর লড়াই সরকারের বিরুদ্ধে নয়, গুন্ডাদের এলাকাছাড়া করার শপথ নিয়েছেন তিনি। গীতার কথায়, "শেখ শাহাজানের ভাই সিরাজ যেভাবে আমাদের জমি কেড়ে নিয়েছে, গ্রামের মহিলাদের অসম্মান করছে প্রতিনিয়ত তাতে এছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় ছিল না। আন্দোলন শুরু করায় আমার বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। লুঠপাট করা হয়েছে, এমনকী আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমার স্বামী ও ছোট ছেলেকেও ছাড়েনি।"
গীতার বাড়ির পাঁচ ফুট দূরে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র করেছে। কিন্তু সেখানে অভিযোগ জানাননি গীতা। বললেন "জানিয়ে কী হবে! পুলিশ তো কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এখন নিজেদেরটা বুঝে নেওয়ার লড়াই শুরু হয়ে গেছে। গতিপথ সময়ই ঠিক করে দেবে।"
গীতা ম্যাডামের নাম জানাননি বটে, শাসক দলের সন্দেহ এই ম্যাডাম আসলে বিজেপির কোনও নেত্রী। জেলা বিজেপি নেতারা বলছেন, সন্দেশখালিতে আগুন জিইয়ে রাখতে বাইরে থেকে ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপি। তাতে এলাকার মানুষের কোনও উপকার হচ্ছে না। বরং অস্থির পরিস্থিতিতে আরও বিপন্ন হচ্ছে স্থানীয় জনজীবন।