
Garden reach Building Collapse - Firhad Hakim
শেষ আপডেট: 18 March 2024 22:08
গার্ডেন রিচের ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের যে জমিতে রবিবার রাতে বহুতল ভেঙে পড়েছে তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য এবার জানা গেল। ভূমি দফতরের রেকর্ডে গার্ডেন রিচ মৌজার প্লট নম্বর ২০৩ এবং ২০৬ পুরোটাই পুকুর এবং পুকুর পাড়। প্রাকৃতিক নিয়মে তৈরি হওয়া পুকুর তথা জলাশয় ভরাট করে বাড়ি তৈরি করার কোনও নিয়মই নেই। কিন্তু রেকর্ডে থাকা সেই পুকুর ভরাট করে পুরসভা কী ভাবে বাড়ি তৈরির অনুমতি দিল, তা নিয়ে এবার বড় প্রশ্ন উঠে গেল।
ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিতর্কিত যে জমিতে ওই বহুতল গড়ে উঠেছিল তার আয়তন ২০ শতক। রেকর্ডে দেখানো রয়েছে যে সেখানে পুকুর রয়েছে। তা ছাড়া পুকুর পাড়ে কিছুটা জমি রয়েছে। ১৯৫৬ সালের রেকর্ড অনুযায়ী ওই জমির মালিক ছিলেন রাধেলাল আগরওয়াল। আবার বর্তমানে পুরসভার রেকর্ডে মালিকের নাম আনন্দ প্রসাদ চৌধুরী।
এই জমিতে জি প্লাস টু বাড়ি বানানোর অনুমতি দিয়েছিল পুরসভা। অর্থাৎ গ্রাউন্ড ফ্লোর ও তার উপর আরও দুটি ফ্লোর। কিন্তু নবান্নের মৌলিক প্রশ্ন হল, পুরসভা জি প্লাস টু-র অনুমতিই বা দিল কী করে? দ্বিতীয় কথা হল, পুরসভা জমির চরিত্র বদল করতেই পারে। কিন্তু তা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরকে জানাল না কেন?
শোভন চট্টোপাধ্যায় মেয়র থাকাকালীন পুরসভার একটি অ্যাপ তৈরি করিয়েছিলেন। তাতে কোথায় কোথায় জলাশয়, জলা জমি ও পুকুর রয়েছে তা রেকর্ড অনুযায়ী দেখা যায়। নবান্নের ভূমি রাজস্ব দফতরের কর্তারা প্রশ্ন তুলছেন, রেকর্ডে পুকুর দেখানো থাকা সত্ত্বেও বাড়ি বানানোর অনুমতি দিলেন কে? তাঁকে এবার জবাবদিহি করতে হবে। কারণ, এই চুরি একেবারে পুকুর চুরির সামিল।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, পুরসভা জি প্লাস টু-র অনুমতি দিলেও সেখানে জি প্লাস ফাইভ কাঠামো তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ ৬ তলা। সোমবার সকালে এ ব্যাপারে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, বাম জমানা থেকে বেআইনি নির্মাণের শুরু। তখন প্ল্যান অনুমোদন করাতে গেলে জুতোর তলা ক্ষয়ে যেত। তাই অনেকেই বেআইনি নির্মাণ করতে শুরু করে। বর্তমান জমানায় নিয়ম অনেক সহজ করা হয়েছে। তার পরেও কীভাবে এই বেআইনি নির্মাণ চলছে তা তাঁর জানা নেই।
কিন্তু বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, গার্ডেন রিচ হল ফিরহাদ হাকিমের দূর্গ। সেখানে এভাবে বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে আর তা তাঁর জানা নেই এটা কল্পনাও করা যায় না। প্রমোটারের পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলর সামস ইকবালকে গ্রেফতারের দাবিও করেছেন তিনি।
তবে গার্ডেন রিচের ঘটনা এখনও আরও বড় প্রশ্নের ঝাঁপি খুলে দিল। তা হল, কলকাতা শহরে এভাবে রেকর্ডে থাকা পুকুর বুজিয়ে আর কত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। সেগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে? এ ব্যাপারে কে জবাবদিহি করবে?