
শেখ আবদুল্লা
শেষ আপডেট: 19 March 2024 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: আগে ভিনরাজ্যে সোনার কাজ করতেন। কিন্তু সেখানে মন্দা লাগায় বাড়ি ফিরে এসেছিলেন খানাকুলের পাতুল গ্রামের ১৮ বছরের যুবক শেখ আবদুল্লা। কয়েকদিন বাড়িতেই ছিলেন। নিজেদের মাটির বাড়িটা পাকা করতে হবে। তার জন্য টাকার প্রয়োজন। তাই দিন ১৫ আগে এক আত্মীয়র সঙ্গে চলে আসেন গার্ডেনরিচে। নির্মীয়মাণ বহুতলের শ্রমিক হিসেবে।
গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে মৃতদের মধ্যে রয়েছেন হুগলির পাতুল গ্রামের সেখ আবদুল্লা (১৮)। মৃত্যুর খবর বাড়িতে আসতেই শোকের ছায়া গোটা গ্রামে। বাড়িতে বুক চাপড়ে কাঁদছে আবদুল্লার দিদিমা। কারণ তিনিই বড় করেছিলেন নাতিকে। তিনি জানান, আবদুল্লা যখন খুব ছোট তখন তার বাবা সুরাফ মল্লিক অন্য একজনকে বিয়ে করে চলে যায়। তার মাও বিয়ে করে ঘর ছাড়ে। এরপর থেকেই তিনি দিদিমার কাছেই বড় হন।
আবদুল্লার এক আত্মীয়া নাজমা বেগম বলেন, "দিদিমার কাছে থাকত আবদুল্লা। কাঁচা ঘরটা পাকা করবে বলেছিল। সোনার কাজে মন্দা থাকায় বাড়ি ফিরে আসে। বলেছিল কয়েকদিন কলকাতায় কাজ করে টাকা জমিয়ে বাড়ির কাজ শুরু করবে। ফোনে দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সোমবার তার মামারা ছুটে গিয়েছিল গার্ডেনরিচে। ততক্ষণে অবশ্য সব শেষ।"
সেখ আজিজুল নামে এক প্রতিবেশী জানান, খুব গরীব পরিবারের ছেলে আবদুল্লা। রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিল গার্ডেনরিচে। রাতে বহুতল ভেঙে তার মৃত্যু হয়। রবিবার রাতে গার্ডেনরিচের আজহার মোল্লা বাগানে এলাকায় ঝুপড়ির উপর ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতলের একাংশ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন বহু মানুষ। প্রাথমিকভাবে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পুলিস সূ্ত্রে খবর, সেই সংখ্যাটা এখন বেড়ে হয়েছে ৯।