দ্য ওয়াল ব্যুরো: কানপুরের বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করল নিহত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের ঘনিষ্ঠ শাগরেদ গোপাল সাইনি। তার মাথার দামও এক লক্ষ টাকা বলে ঘোষণা করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার।
জলতি মাসের ৩ তারিখে আট পুলিশ কর্মীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করেছিল বিকাশ দুবে ও তার দলবল। সেই ঘটনায় গোপাল সাইনিও যুক্ত ছিল। পরোয়ানা জারি হয়েছিল তার নামেও। বিকাশের মতোই গোপাল সাইনিকেও তন্নতন্ন করে খুঁজছিল উত্তরপ্রদেশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স এবং কানপুর পুলিশ।
ঘটনার এক সপ্তাহ পরে বিকাশ দুবেকে গ্রেফতার করা হয়, পুলিশ এনকাউন্টারে নিহত হয় সে। কিন্তু খোঁজ মেলেনি গোপাল সাইনির। অবশেষে কানপুরের মাটি এলাকার বিশেষ আদালতে গোপালের আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দেয় তার আইনজীবী। এর পরেই আজ বৃহস্পতিবার আদালতে এসে ধরা দেয় গোপাল।
কানপুরের রুরাল পুলিশ সুপার ব্রজেশ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, পুলিশের তরফে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে গোপাল সাইনিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার জন্য। তাহলেই তাকে যথাযথ ভাবে জেরা করা যাবে এবং জানা যাবে, বিকাশ দুবের গ্যাঙের অন্য সদস্যরা কোথায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
জুলাইয়ের ৩ তারিখে বিকাশকে ধরার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশকর্মী নিয়েই গ্রামে হাজির হয়েছিল বাহিনী। কিন্তু গ্রামে কিছুটা ঢুকতেই পথ আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে দেখে পুলিশ বুঝতে পারে তারা যে আসছে তা আগেই দুবের দলের কাছে খবর রয়েছে। তার পরে আর সময় মেলেনি। অতর্কিত আক্রমণে সব ঝাঁঝরা হয়ে যায়। বিকাশের গোটা দল রক্তাক্ত পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে বন্দুক ও গুলি ছিনিয়ে সেখান থেকে রাতের অন্ধকারে চম্পট দেয়।
ঘটনার পরে যখন বিকাশ দুবে ও তার দলবলকে তন্নতন্ন করে খুঁজছে পুলিশ, তখনই একে একে পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে এনকাউন্টার করে মেরে ফেলে পুলিশ। নাটকীয় ভাবে বিকাশ দুবে ধরা পড়লেও, থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে পুলিশের গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে এনকাউন্টার করে মেরে ফেলা হয় তাকেও।
বিকাশের ডানহাত গোপাল সাইনিকে ধরার জন্য ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল সরকার। পরে তা বাড়িয়ে এক লক্ষ টাকা করা হয়। অবশেষে আত্মসমর্পণ করল গোপাল সাইনি।
জেরা করে বিকাশ দুবের কার্যকলাপ ও তার প্রভাব সম্পর্কে জানার জন্য একমাত্র এই গোপাল সাইনিই সেই দলের জীবিত সদস্য বলে জানা গিয়েছে। এখন তার থেকে কী জানা যায়, তার জন্যই অপেক্ষা করে আছে সকলে।