দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান থেকে পিংলা। নিউটাউনে গ্যাংস্টার এনকাউন্টার কাণ্ডে তদন্তের জট ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। অস্ত্রপাচারকারী, মাদক ব্যবসায়ী, আন্তর্জাতিক চোরাচালানে যুক্ত পাঞ্জাবের দুই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ দুষ্কৃতী জয়পাল সিং ভুল্লার ও যশপ্রীত সিং খাড়ারের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ মিলেছে গতকালই। এর পরে মিলল, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার সূত্রও। পুলিশ জানিয়েছে, পিংলার বাসিন্দা আকাশ পালের আধার কার্ড দেখিয়েই কেনা হয়েছিল একটি নতুন সিম কার্ড। সেই সিম ব্যবহার করেই নিউটাউনের সাপুরজিতে ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় গ্যাংস্টাররা।
পঞ্জাবের গ্যাংস্টারদের শিকড় খুঁজতে গিয়ে পাকিস্তানের যোগ মেলায় যথেষ্ট চমকেছিলেন সকলে। তবে পিংলার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ হল তাঁদের, তা এখনও অন্ধকারে। তথ্য বলছে, ১৭ই মে আকাশ পাল নামে এক ব্যক্তির নথি দেখিয়ে কেনা হয় সিম। আকাশ পিংলার পশ্চিম রামপুরের বাসিন্দা। আকাশের নামে কেনা সেই সিম কার্ড ব্যবহার করেই জমিবাড়ির দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউটাউনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল জয়পালরা।
তবে কে এই আকাশ পাল, সেও কি কোনও ভাবে এই দুষ্কৃতীচক্রের সঙ্গে জড়িত? আকাশের নথিপত্রই বা কীভাবে হাতে পেল গ্যাংস্টাররা? সিমকার্ডটি আকাশ নিজেই কিনেছিল কিনা-- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। মিসিং লিঙ্ক হাতড়াচ্ছেন তদন্তকারীরা।
জানা গেছে, নিউটাউনের সাপুরজি এলাকার আবাসনে বি-১৫২ টাওয়ারের যে ফ্ল্যাটে থাকত দুষ্কৃতীরা, তার খোঁজ দেয় ভরত কুমার নামে আরও এক দাগি আসামি। এরই সাহায্যে বাংলায় পালিয়ে এসে এই ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় তারা। পুলিশ জানতে পেরেছে, এত বড় আবাসনের বেশিরভাগ ফ্ল্যাট বন্ধ থাকে। মালিকরা অন্য জায়গায় থাকেন। বেশিরভাগ সময়ে ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া বসিয়ে যান। এজেন্সি মারফৎ ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হয়। এভাবেই হয়ত সাপুরজি আবাসনের ফ্ল্যাটের হদিশ পায় গ্যাংস্টাররা।
এজেন্সিকে একমাসের ২০ হাজার টাকা ভাড়া দেয় তারা, আর ১১ মাসের চুক্তিতে ১০ হাজার টাকা করে ভাড়ার বিনিময়ে ফ্ল্যাট নেয় আবাসনে। ২৩ মে থেকে ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করে। বাংলার নম্বর প্লেট লেখা একটি গাড়িও ভাড়া নেয়। আবাসনের বাসিন্দারা বলেছে, ফ্ল্যাটের বাইরে খুব বেশি দেখা যেত না তাদের। বাইরে থেকে বেশি লোকের আনাগোনা ছিল না। এমনকি খাবারও আসত বাইরে থেকেই। তাই কেউ সন্দেহ করেনি।
ওই ফ্ল্যাটটি যাঁর সেই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। কীভাবে সঠিক পরিচয় না জেনে তিনি ফ্ল্যাট ভাড়া দিলেন বা এর পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।