
শেষ আপডেট: 8 January 2024 17:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মকর সংক্রান্তির এক সপ্তাহ বাকি। গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু সন্ন্যাসীরা ভিড় করতে শুরু করেছেন গঙ্গাসাগরে। এর মধ্যেই রামমন্দিরের আমন্ত্রণপত্র এসে পৌঁছেছে তাঁদের হাতে। মকর সংক্রান্তির পূণ্যাস্নানের পরে আদৌ তাঁরা অযোধ্যার আমন্ত্রণ রক্ষা করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই জন্য অনেকের মন খারাপ।
আগামী ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার রাম মন্দির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিনই প্রতিষ্ঠা হবে রামলালার মূর্তি। সেখানেও এখন প্রস্তুতি পর্ব তুঙ্গে। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো শুরু করেছে রামমন্দির কর্তৃপক্ষ। গঙ্গাসাগরের সন্ন্যাসীদের হাতেও এসে পৌঁছেছে সেই আমন্ত্রণ। মন্দির কমিটির লোকজন এসে প্রত্যক সন্ন্যাসীকে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের কার্ড দিয়ে আমন্ত্রণ করে গেছেন। তাতে খুশি মেলায় আসা সন্ন্যাসীরা।
কিন্তু সন্ন্যাসীদের মনে, সেখানে যাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে। কারণ প্রথা অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত তাঁদের গঙ্গাসাগরের থাকতে হবে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পড়েছে মাঘী পূর্ণিমা। তার আগেই আগামী ২২ জানুয়ারী রামমন্দির উদ্বোধন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়া থেকে নিজেদের বঞ্চিতও রাখতে চান না গঙ্গাসাগরে আসা সন্ন্যাসীরা।
বহু দূর থেকে গঙ্গাসাগরের এসে পৌঁছেছেন সন্ন্যাসী কৃষ্ণানন্দ গিরি। প্রতিবছর সংক্রান্তির স্নান করেন গঙ্গাসাগরে। তাঁর হাতেও ইতিমধ্যে রামমন্দিরের আমন্ত্রণপত্র এই পৌঁছেছে। ভীষণ আবেগঘন হয়ে পড়ে কৃষ্ণানন্দ জানান, ''আমাদের জন্য গঙ্গাসাগর মেলা হয়। মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত আমাদের সকলকেই এখানে থাকতে হয়। আমি বাংলার সন্ন্যাসী। রামমন্দিরের আমন্ত্রণপত্র হাতে এলেও সেখানে যাব কিনা বলতে পারছি না।''
হরিয়ানা থেকে পূণ্যস্নানের জন্য গঙ্গাসাগরে এসেছেন মহেন্দ্র গিরিও। তিনি নাগা সন্ন্যাসী। রামমন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র তিনিও পেয়েছেন। তিনি বলেন, ''আমি খুব খুশি। ওই মন্দির উদ্বোধনের দিন যেতে পারব কিনা জানা নেই। তবে ওই মন্দির নির্মাণের জন্য বহু নাগা সন্ন্যাসীও আত্মবলিদান করেছেন।''